শিরোনামঃ

সরকারি আকবর আলী কলেজ: উল্লাপাড়ার শিক্ষার আলোকবর্তিকা

admin5
সরকারি আকবর আলী কলেজ: উল্লাপাড়ার শিক্ষার আলোকবর্তিকা
Getting your Trinity Audio player ready...

*সরকারি আকবর আলী কলেজ: উল্লাপাড়ার শিক্ষার আলোকবর্তিকা*
*১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা, ১৯৮৪ সালে জাতীয়করণ, অর্ধ শতাব্দীর গৌরবময় পথচলা*

*মোঃ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | দেশের প্রত্যয়*

*উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ:* সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা শহরের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—*সরকারি আকবর আলী কলেজ*। নামের সাথেই জড়িয়ে আছে ত্যাগ, শিক্ষানুরাগ আর ইতিহাস। ৫ বছরের বেশি সময় ধরে এটি শুধু একটি কলেজ নয়, উল্লাপাড়া ও আশপাশের ১০-১৫টি উপজেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার তীর্থস্থান।

এই কলেজটি কার নামে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হইল এর ইতিহাস।

*প্রতিষ্ঠা:* ১৯৭০ সাল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ারও ১ বছর আগে। উল্লাপাড়ার শিক্ষানুরাগী মানুষের দাবির মুখে স্থানীয় দানবীর ও সমাজসেবক *এম. আকবর আলী*র নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
*সরকারিকরণ:* ১৯৮৪ সাল। প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর তৎকালীন সরকার কলেজটিকে জাতীয়করণ করে। ফলে এটি “সরকারি আকবর আলী কলেজ” নাম ধারণ করে এবং আর্থিক-একাডেমিক স্থিতিশীলতা পায়।

প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল—উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা-রাজশাহীতে ছুটে যাওয়া বন্ধ করে উল্লাপাড়ার ছেলে-মেয়েদের ঘরের কাছেই মানসম্মত শিক্ষা দেয়া।

*কলেজের বর্তমান রূপ – বিভাগ ও আসন সংখ্যা*

সরকারি কলেজ হিসেবে এখানে HSC, স্নাতক পাস ও অনার্স কোর্স চালু আছে:

*১. উচ্চ মাধ্যমিক HSC:* বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা – তিন শাখাই আছে। প্রতি শাখায় বেশ সংখ্যক আসন।
*২. স্নাতক পাস ডিগ্রি:* BA, BSS, BBS – ৩টি শাখা।
*৩. অনার্স কোর্স:* বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা—মোট ৬টি বিষয়ে অনার্স চালু আছে।

*শিক্ষার্থী সংখ্যা:* বর্তমানে প্রায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৫০% এর বেশি ছাত্রী।

*শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা – বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য*

সরকারি কলেজ হওয়ায় এখানে শিক্ষার খরচ অনেক কম। ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুযোগ:

*১. বিশাল ক্যাম্পাস ও অবকাঠামো:*
১৫ একর জমির উপর কলেজ। ৪টি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, মসজিদ, শহীদ মিনার, খেলার মাঠ আছে। ২০২৩ সালে নতুন ৫ তলা একাডেমিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে।

*২. ল্যাব ও লাইব্রেরি:*
পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার ল্যাব আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সাজানো। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে অনেক বই। ছাত্রীরা আলাদা রিডিং রুম পায়।

*৩. ছাত্রী হোস্টেল ও নিরাপত্তা:*
কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরেই ছাত্রীদের জন্য “আকবর আলী ছাত্রী নিবাস” আছে। অনেক সিট। ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, গেটে মহিলা আনসার। ক্যাম্পাসজুড়ে সিসি ক্যামেরা।

*৪. উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা:*
সরকারি উপবৃত্তি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৃত্তি এখানে সহজে পাওয়া যায়। দরিদ্র মেধাবী ছাত্রীদের সেমিস্টার ফি মওকুফ করা হয়।

*৫. সহশিক্ষা কার্যক্রম:*
BNCC, রেড ক্রিসেন্ট, বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, সাংস্কৃতিক সংগঠন সক্রিয়। প্রতি বছর আন্তঃকলেজ খেলা, বিজ্ঞান মেলা, বইমেলা হয়। ছাত্রীদের অংশগ্রহণ এখানে সবচেয়ে বেশি।

*অর্ধ শতাব্দীর উন্নয়ন – ১৯৭০ থেকে ২০২৬*

*১. ১৯৭০-১৯৮৪: বেসরকারি যুগ*
টিনশেড ঘর, অল্প শিক্ষক, সীমিত বই। তবুও মফস্বলের শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়েছিল।

*২. ১৯৮৪-২০১০: সরকারিকরণের পর*
জাতীয়করণের পর শিক্ষক নিয়োগ, বেতন-ভাতা নিশ্চিত হয়। একের পর এক পাকা ভবন, ল্যাব তৈরি হয়। HSC রেজাল্টে সিরাজগঞ্জ জেলায় শীর্ষ ৫-এ জায়গা করে নেয়।

*৩. ২০১০-২০২৬: আধুনিকায়নের যুগ*
– *ডিজিটাল ক্লাসরুম:* ১০টি ক্লাসরুমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বসানো হয়েছে
– *বঙ্গবন্ধু কর্নার ও মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি:* শিক্ষার্থীদের ইতিহাস জানাতে স্থাপন করা হয়েছে
– *ফলাফল:* ২০২৪ সালের HSC তে পাসের হার ৯২%। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৭ জন। অনার্সে প্রতি বছর ৮০%+ শিক্ষার্থী ১ম শ্রেণি পায়
– *কৃতী শিক্ষার্থী:* এই কলেজ থেকে পড়ে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছে

*অধ্যক্ষের কথা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা*

কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “আকবর আলী স্যারের স্বপ্ন ছিল এটা যেন শুধু সার্টিফিকেটের কারখানা না হয়, মানুষ গড়ার কারখানা হয়। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। মেয়েদের শিক্ষাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই, কারণ একটা মেয়ে শিক্ষিত হলে একটা জাতি শিক্ষিত হয়”।

*ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:* নতুন বিজ্ঞান ভবন, ছেলেদের হোস্টেল, আরও ২টি অনার্স বিষয় খোলা এবং কলেজকে “মডেল কলেজ” হিসেবে গড়ে তোলা।

*শেষ কথা – উল্লাপাড়ার গর্ব*

সরকারি আকবর আলী কলেজ শুধু ইট-কাঠের ভবন না। এটা উল্লাপাড়ার গর্ব, সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্য। ১৯৭০ সালের সেই টিনের ঘর আজ ৪ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নের আঙিনা।

এই কলেজ প্রমাণ করে—শিক্ষা দেয়ার ইচ্ছা থাকলে অর্থ-উপকরণ বড় বাধা না। প্রয়োজন শুধু আকবর আলীর মতো দানবীর মন আর শিক্ষকদের আন্তরিকতা।

*যোগাযোগ:* সরকারি আকবর আলী কলেজ, উল্লাপাড়া পৌরসভা, সিরাজগঞ্জ-নাটোর মহাসড়ক সংলগ্ন।
*ভর্তি:* প্রতি বছর মে-জুনে SSC রেজাল্টের পর অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।