শিরোনামঃ

যশোরের কেশবপুর জোয়ার-ভাটার কল্লোলে, প্রাণ ফিরেছে হরিহরে


যশোরের কেশবপুর জোয়ার-ভাটার কল্লোলে, প্রাণ ফিরেছে হরিহরে
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

জোয়ার-ভাটার কল্লোলে, প্রাণ ফিরেছে হরিহরে

পুনঃখননের পর যশোরের কেশবপুরের হরিহর নদে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। স্বাভাবিক হয়েছে জোয়ার-ভাটা। শুক্রবার তোলা। -কালের কণ্ঠ

মাত্র ছয় মাস আগেও ছিল সরু খাল। জোয়ার-ভাটা দূরে থাক, কৃষিকাজে সেচের জন্য ন্যূনতম পানির ব্যবস্থা ছিল না।

 

পলি পড়তে পড়তে একপর্যায়ে প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। শুকনো মৌসুমে দুই পাশের বড় অংশে বেরিয়ে পড়তো শুকনো খড়খড়ে চর, আর বর্ষায় পানি আটকে পড়ে দেখা দিত জলাবদ্ধতা।

যশোরের কেশবপুরের মৃতপ্রায় সেই হরিহর নদে আবার প্রাণ ফিরেছে। স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা শুরু হয়েছে।

 

এলাকার মানুষের মনে নতুন করে আশা জেগেছে।

স্থানীয়রা জানায়, দিনের পর দিন নদে পলি পড়ে একপর্যায়ে ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি উপচে জেলার কেশবপুর ও মণিরামপুরের কয়েকটি ইউনিয়ন জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

 

 

এ বছর নদটি পুনঃখনন করা হয়। এতে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে, সেইসঙ্গে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এখন নদপারে কৃষক সহজে আবাদ করতে পারবে বলে আশা তাদের।

এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, হরিহর নদের উৎপত্তি কেশবপুরের বড়েঙ্গা ত্রিমোহনা থেকে আপারভদ্রা নদী থেকে। সেখান থেকে কেশবপুর ও মণিরামপুরের ভেতর দিয়ে চৌগাছায় গিয়ে মিশেছে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নদটিতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা না থাকায় কেশবপুরের মঙ্গলকোট, পাঁজিয়া, পৌরসভা, কেশবপুর ইউনিয়ন এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি মনোহরপুর দুর্বাডাঙ্গা ও শ্যামকুড় ইউনিয়নে ব্যাপক জলবদ্ধতা দেখা দিতো। এতে ফসল উৎপাদনে ব্যর্থ হয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে কৃষক। জোয়ার-ভাটা ফিরে আসায় এলাকার মানুষ নদের পাড়ে ভীড় করছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের নদ-নদী ও খাল খনন কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে হরিহর নদ পুনঃখনন শুরু হয়। শেষ হয় জুলাই মাসে। এতে নদসংলগ্ন কেশবপুরের গরালিয়া ও সুজাপুর খাল এবং মণিরামপুরের পলাশি, গজশ্রী, কামালপুর ও ইতরা খাল পুনঃখনন হওয়ায় নদের স্রোতও বাড়ে।

 

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সরেজমিন উপজেলার মধ্যকূল এলাকায় গিয়ে কথা হয় কৃষক আয়ুব খানের সঙ্গে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতার কারণে গত ছয়-সাত বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে ফসল উৎপাদন করতে পারেননি তিনি। এ বছর নদটি পুনঃখনন হওয়ায় জোয়ার-ভাঁটা স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে এলাকায় পানি আটকে থাকার সুযোগ পাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে এভাবে নদে জোয়ার ভাঁটা চললে জলাবদ্ধতা থাকবে না।

 

একই রকম আশার কথা জানান কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কামরুলজামান।

 

নদটির কেশবপুর শহরের শ্রীগঞ্জ সেতুর ওপর গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে নদটির দুই কূল ভরে উঠেছে। জোয়ারে প্রবল স্রোত দেখা যাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখতে এলাকার মানুষ নদের পাড়ে ভীড় করছে। এ সময় নদের পাড়ে দেখা হয় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শওকত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর পর নদে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা দেখে খুবই ভালো লাগছে।

 

২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবুর আলী গোলদার বলেন, এলাকার নদ-নদী পুনঃখনন হওয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনের সম্ভাবনা জেগেছে। এলাকার কৃষকদের মধ্যে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তবে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগে ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম (জোয়ারাধার) চালু করা গেলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আরো সহায়ক হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকার কৃষক দীর্ঘমেয়াদি এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, নদটি পুনঃখনন হওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা চলছে। নদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি খাল খনন হওয়ায় এলাকার পানি দ্রুতগতিতে নদে এসে পড়ছে। তাতেও নদে স্রোতের গতি বেড়েছে। এলাকার কৃষক এবার সহজে ফসল উৎপাদন করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।