বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙনরোধে নির্মাণ করা শহড়াবাড়ী স্পার বাঁধে নৌকা রাখা নিষেধ-এমন একটি সাইনবোর্ড বসায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিদিন সেখানে নৌযান নোঙর করা হচ্ছে।
এতে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদীর তীররক্ষা বাঁধ এলাকা।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সরেজমিনে যমুনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, স্পার বাঁধে নোঙর করা নৌযানের সারি। নৌযানগুলোর লোহার তৈরি নোঙর নদীর কূলে থাকা বালুভর্তি জিও ব্যাগের সঙ্গে আটকে রাখা হয়েছে। এতে নোঙরের ফলায় জিও ব্যাগ ছিড়ে ব্যাগ থেকে বালু বের হয়ে পড়ছে।
ফলে ছেঁড়া জিও ব্যাগগুলো আর টেকসই হচ্ছে না।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করে। ২০১১ সাল থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনার তীর এলাকায় ভাঙনরোধে কাজ করে পাউবো।
এর অংশ হিসেবে নদীতীরের বালুমাটি ঢালু করে দিয়ে তার ওপর জিও ব্যাগ বিছানো হয়। আবার কোথাও কোথাও নদীর ভাঙনের স্থান মেরামতের জন্য মাটি ঢালু করে বিছিয়ে করে তার ওপর বালুবর্তি জিও ব্যাগ রাখা হয়েছে। এসব জিও ব্যাগ নদীতীরে শত বছর টেকসই হওয়ার কথা। এতে নদীর ভাঙন রোধ হয়।
যমুনাতীরের মাঝি-মাল্লারা বলেন, নদীর কূলে নৌযান আটকে রাখার জন্য নোঙর ব্যবহার করা হয়।এতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ছিড়ে কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। তবে নদীর তীররক্ষা বাঁধের ক্ষতি হওয়ার কোনো শংঙ্কা নেই। যমুনা নদীর ঘাটে নৌযান বেঁধে রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তারা।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিটন আলী বলেন, যমুনা নদীর তীররক্ষা প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয়দের সচেতন করতে শহড়াবাড়ী স্পারে সাইনবোর্ড দিয়েছি। কিন্ত অনেকেই এ নিষেধাজ্ঞা মানতে চান না। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।