প্রেমের ফাঁদে অপহরণের ঘটনায় মুক্তিপণ আদায় চক্রের সদস্য আয়শা সিদ্দিকা (২২) ও ২৪ মামলার আসামি মুসা ইব্রাহিমকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম। এ সময় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর নবী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত সোমবার রাত ১২টায় দিনাজপুর শহরের কালিতলা সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার মুসা দিনাজপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের বড়ইল গ্রামের মৃত কছিম উদ্দীনের ছেলে ও আয়শা সিদ্দিকা উপশহর ৮ নম্বর ব্লকের মৃত আনোয়ার হোসেনের কন্যা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল হালিম জানান, গ্রেপ্তার মুসার বিরুদ্ধে অপহরণ করে জোরপূর্বক মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতি ও খুনের ২৪টি মামলা চলমান রয়েছে। সে আয়শা সিদ্দিকাকে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করত। গত ২৩ এপ্রিল দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্র রায় কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বাদী মামলায় অভিযোগ করেন, বাদীর ছেলে ধনঞ্জয়কে আয়শা সিদ্দিকা প্রেমে ফেলে দিনাজপুর শহরে ডেকে আনে। পরে ধনঞ্জয়কে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ২৩ এপ্রিল কোতয়ালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধনঞ্জয়কে উদ্ধার ও মুসার ভাই শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়।তিনি আরো জানান, মুসা ইব্রাহিম একজন সন্ত্রাসী ও পেশাদার চাঁদাবাজ। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে দিনাজপুরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা বহু মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও সর্বস্ব কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি ধারালো রামদা, ধারালো হাঁসুয়া, একটি ছোড়া, ৩টি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মোবাইলগুলো থেকে তার অপকর্মের নানা ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এই গ্রুপের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।