শিরোনামঃ

পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান

admin5
পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, বিচ্ছিন্ন ২ চা বাগান
Getting your Trinity Audio player ready...

কয়েক দিনের টানা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের সংযোগসড়কের সেতু ধসে পড়েছে। রবিবার (২১ জুন) ও সোমবার (২২ জুন) টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে পড়ে।

 

 

ফলে দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই চা বাগানের প্রায় আট হাজার মানুষের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া দুটি চা বাগানের উৎপাদিত চা পাতা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সংগ্রহ করা কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাগানের সড়কে সেতুটি নির্মাণ করে।

 

 

লস্করপুর ও কাপাই চা বাগানের প্রায় ২ হাজার শ্রমিক পরিবারের আট হাজার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করতেন। কাপাই চা বাগানের শিক্ষার্থীরা লস্করপুরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এই সেতু দিয়েই। কাপাই বাগানের উৎপাদিত চা পাতাও লস্করপুর কারখানায় নেওয়া হয় এ পথেই।

চুনারুঘাট পাইকপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী মাস্টার জানান, কাপাই চা বাগানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক ও দুই হাজার বাসিন্দা এবং লস্করপুর চা বাগানে প্রায় এক হাজার ৫০০ শ্রমিকসহ প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস।সেতু ধসে দুই বাগানের প্রায় ৮ হাজার মানুষই এখন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

তিনি আরো জানান, বৃষ্টি হলেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি এলাকার পানি সেতুর নিচের ছড়া দিয়ে নেমে আসে। কয়েক বছরে ছড়াটি ছোট নদীর রূপ নেওয়ায় সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিন্তু মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় রবিবার ও সোমবার রাতের ঢলে দুই প্রান্তের অ্যাপ্রোচসহ মাঝের অংশ ধসে যায়। এতে চা পাতা পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

 

 

দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার। কাপাই চা বাগানের শ্রমিকরা উপজেলা সদরেও যেতে পারছেন না।

লস্করপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. সাজ্জাদুল হক বলেন, ‘কাপাই বাগানের চা পাতা এখন কয়েকটি বাগান ঘুরে মহাসড়ক হয়ে কারখানায় আনতে হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটিই বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের চলাচলেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর মাঝের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তাই এটি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব নয়। সেখানে নতুন সেতু নির্মাণই একমাত্র সমাধান।’

 

চুনারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটি ধসের সঙ্গে সঙ্গেই সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। আপাতত মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছ।’

 

চুনারুঘাট উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, চা বাগান কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সদর দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।