নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে আইনি ও নীতিগত কাঠামো সংস্কার প্রয়োজন
অনলাইন ডেক্স
/ ১৪
প্রকাশিত সময়:
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
Share
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে আইনি ও নীতিগত কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ (ডব্লিউকেবি), এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি) এবং ফসিল ফুয়েল ট্রিটি (এফএফটি) ইনিশিয়েটভ আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা।
বৈশ্বিক অস্থিরতা : জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের রিভারফক্স এনভায়রনমেন্টাল-এর সিইও ডোনা লিসেনবি, ফিলিপাইন থেকে আসা এপিএমডিডির সমন্বয়কারী লিডি ন্যাকপিল এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী শরীফ জামিল।
সভায় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, জ্বালানি ও পরিবেশের বিষয়টি একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সমন্বিত পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির অভাবে পরিবেশ দূষণ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প তার বড় উদাহরণ।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ ও শিল্প-কারখানার জায়গা ব্যবহার করে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একই সঙ্গে শক্তি সাশ্রয় ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। গ্যাস ও জ্বালানির সাশ্রয়ে শিল্পখাতে বিকল্প ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
শরীফ জামিল বলেন, বিদ্যমান বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর অধিগ্রহণকৃত অতিরিক্ত জমি ব্যবহার করে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ করলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। এতে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটকালেও মানুষ নিরাপত্তা পাবে।
তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ সুন্দরবন, মৎস্যসম্পদ ও স্থানীয় জীবিকায় গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পায়রা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের বিদ্যুৎ প্রকল্প ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। সেখানে অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয় এবং বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করছে।মাতারবাড়ী প্রকল্প দেশের লবণ উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। পরিবেশ ও জীবিকা রক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরের জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মারাত্মক ঝুঁকি ও অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরেন ডোনা লিসেনবি। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, যার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশি পড়বে। ঝুঁকি কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর এবং রামপাল, পায়রা ও মাতারবাড়ী এলাকায় সোলার হাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সেই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও ন্যায়ভিত্তিক নীতির আহ্বান জানান।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে উল্লেখ করে লিডি ন্যাকপিল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়াতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ও ন্যায্যভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরকে জরুরি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, এই রূপান্তর শুধু জলবায়ু নয়, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানুষের বেঁচে থাকার সঙ্গেও সম্পর্কিত। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর ‘ফেয়ার শেয়ার’ অনুযায়ী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত এবং বাস্তবমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন ন্যাকপিল।
সভায় আরো বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক,অ্যাকশনএইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, এফএফটি ইনিশিয়েটিভের এশিয়া ক্যাম্পেইনার মেগা মাসকি, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিপাল বড়ুয়া, সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ।
প্রধান উপদেষ্টা: শেখ শাহীন হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS) মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ।উপদেষ্টা: এইচ এন কামরুল ইসলাম, সভাপতি রিপোর্টার্স ইউনিটি মাগুরা।উপদেষ্টা: এ্যাড: ড. ওহিদুল রহমান (আইনজীবী )।উপদেষ্টা:অমিত সরকার সহ সভাপতি মহানগর প্রেসক্লাব ফরিদপুর।প্রকাশক ও সম্পাদক : আশিষ কুমার সাহা মফস্বল সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম,সহকারী সম্পাদক: আলাউদ্দিন মন্ডল,নির্বাহী সম্পাদক: বিধান কুমার সরকার,বার্তা সম্পাদক: বাঁধন সরকার,কর্পোরেট অফিস ঠিকানা:৫৫/বি পুরানা পল্টন নোয়াখালী টাওয়ার লিফট ১৪ রুম নং সি/এ, ঢাকা ১০০০আঞ্চলিক অফিস: শ্রী অঙ্গন মার্কেট তৃতীয় তলা রুম নং০৭, গোয়ালচামট, ফরিদপুর সদর, ফরিদপুর।ই-মেইল desherprottoy@gmail.comঅফিস ফোন+8809638278137,01783931689,জরুরী প্রয়োজনে -01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।