প্রায় চার বছর আগে টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় হয় হিন্দু যুবক অন্তু চক্রবর্তীর সঙ্গে পরিচয় হয় মুসলিম মিতু আক্তারের। এরপর গড়ে ওঠে প্রণয়ের সম্পর্ক। দীর্ঘ দুইবছর তার বিয়েবহির্ভূত সংসার করেন। তবে ধর্মীয় ভিন্নতা ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়।
এবার বিয়ের দাবিতে ওই যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন মিতু আক্তার (৩২)। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকৈরগড়া গ্রামে। অন্তু চক্রবর্তী ওই গ্রামের অশিত চক্রবর্তীর ছেলে এবং মিতু আক্তার ফরিদপুরের রাজবাড়ী জেলার দুলদী লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে কথা হয় মিতু আক্তারে সঙ্গে। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই ওই বাড়িতে অবস্থান করছেন মিতু আক্তার। ২০২২ সালে টিকটকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে কথাবার্তার এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সে সময় অন্তু চক্রবর্তী সাভারের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালে মিতু আক্তার সেখানে গেলে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।মিতু আক্তার আরো জানান, এর আগে তার একটি সংসার ছিল এবং সেখানে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। তবে প্রেমের টানে তিনি অন্তুর কাছে চলে আসেন। তার দাবি, অন্তু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
পরে তার আগের বিয়ের বিষয়টি অন্তুর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিরোধ তৈরি হয়।
মিতু আক্তার বলেন, আমি তাকে আগেই বলেছিলাম, আমার স্বামী-সন্তান আছে। তখন সে বলেছিল, এসব তার সমস্যা না। আমার ১০টা বা ২০টা সন্তান থাকলেও সে আমাকে নিয়েই থাকবে। সে কখনো আমার ধর্ম নিয়েও আপত্তি করেনি। আমি নামাজ পড়তাম, কোরআন পড়তাম, সেও শুনতো। আমার টিকটক ও ইমু আইডিতেও ‘মিতু আক্তার’ নামই ছিল। এই নাম কি হিন্দুর হতে পারে?
তিনি আরো বলেন, আমি এখন তার বাড়িতে এসেছি। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি মরে যাবো।
এদিকে প্রেমিক অন্তু চক্রবর্তী দাবি করেন, তিনি জানতেন না মিতু আক্তার মুসলিম ও বিবাহিত। হিন্দু পরিচয়ে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়েছিল। পরে জানতে পারি সে বিবাহিত এবং তার সন্তানও আছে। এসব জানার পর আমি সম্পর্ক থেকে সরে আসি। এখন সে বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি করছে। কিন্তু আমি তাকে বিয়ে করবো না। সে মুসলিম, আমি হিন্দু। আর আগের দুই স্বামী ও সন্তান ছেড়ে আসতে পেরেছে, আমাকেও ছেড়ে যেতে পারবে।
প্রেমিক অন্তু চক্রবর্তীর বাবা অশিত চক্রবর্তী জানান, ছেলে চাকুরি করতে গিয়েছিল, সেখানে এসব মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি আমি জানতাম না।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল মিয়া বলেন, ছেলে-মেয়ে দুজনই অপরাধ করেছে। তবে ছেলেটি মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছে। বিয়ে ছাড়া সংসারও করেছে বলেই মেয়েটি এখানে এসেছে এখন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য ভালো নয়। আমরা সুষ্ঠু সমাধান চাই। যেহেতু তারা দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিল, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।’
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আইনগতভাবে এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’