ঝালকাঠিতে মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সুগন্ধা নদীতে ডিঙি নৌকা বাইচ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত
শংকর দাস পবন, সহঃবার্তা সম্পাদক
আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর সমাপনী, মূল্যায়ন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)বিকালে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে শহরের লঞ্চঘাট থেকে বর্ণাঢ্য ডিঙি নৌকাবাইচ শুরু হয়। এতে ১০টি নৌকা ও জেলেদের দল অংশ নেয়। বৈঠার ছন্দে প্রতিযোগীদের উচ্ছ্বাস এবং দর্শনার্থীদের করতালিতে সুগন্ধার বুকে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। নৌকাবাইচটি ঝালকাঠি মিনি পার্ক এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
নৌকাবাইচ দেখতে সুগন্ধা নদীর দুই তীরে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে নদীর তীর পরিণত হয় মিলনমেলায়। অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ফোনে নৌকাবাইচের দৃশ্য ধারণ করে স্মৃতিতে ধরে রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মো. মুসফিকুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়েজিদ ইবনে আকবর, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নৌকাবাইচের পাশাপাশি জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হয়। পরে মৎস্য খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও নৌকাবাইচে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নৌকাবাইচে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন প্রথম স্থান অর্জন করে।
বক্তারা বলেন, নদী-খাল ও নৌকার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের জীবন ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও নদীমাতৃক জীবনের অনন্য প্রতিচ্ছবি। একই সঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে ঝালকাঠিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। নৌকাবাইচ, মূল্যায়ন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জাতীয় মৎস্য পক্ষের এবারের আয়োজন।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।



















আপনার মতামত লিখুন :