গোদাগাড়ীতে ১৪০ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
ক্রাইম রিপোর্টার রাজশাহী, মো:আতিকুর রহমান
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ১৪০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার জন্য তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা, রাজাবাড়ী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কানাইডাঙ্গা এলাকায় জনৈক নাসিরুদ্দীন, পিতা—মৃত মহসিন আলী, এর চাচাতো ভাই মৃত খাদিমুল ইসলাম সকেটের বাড়ির গোয়ালঘরে অবৈধভাবে সার মজুদ করে রাখার তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা এমওপি সার ৯০ বস্তা এবং ডিএপি সার ৫০ বস্তা, সর্বমোট ১৪০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে সার মজুদের বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধভাবে সার মজুদের অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত না থাকার বিষয়ে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ১৪০ বস্তা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা। অর্থদণ্ডসহ এ ঘটনায় মোট আর্থিক সংশ্লিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমে কৃষিকাজে সারের চাহিদা বেড়ে যায়। এ সময় অবৈধভাবে সার মজুদ করে রাখলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে সাধারণ কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হওয়ার পাশাপাশি সময়মতো প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
কৃষক ও স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে মজুদ বা কৃত্রিম সংকট তৈরিতে ব্যবহার না হয়, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়া সার মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানান তারা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের স্বার্থে সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ মজুদ, অনুমোদনবিহীন বিক্রি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।



















আপনার মতামত লিখুন :