শিরোনামঃ

কালাইয়ে দাখিলে পাসের হার ২৭ শতাংশ, এক মাদরাসায় সবাই ফেল


কালাইয়ে দাখিলে পাসের হার ২৭ শতাংশ, এক মাদরাসায় সবাই ফেল
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

 

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার ২০টি মাদরাসা থেকে ৪৯৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১৩৭ জন।

 

 

অকৃতকার্য হয়েছে ৩৬২ জন। এতে উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অথচ এবার বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে সার্বিক পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে পুর এম. ইউ. (স্নাতক) ফাজিল মাদরাসা।

 

 

প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

এ ছাড়া কালাই পৌরশহরের থুপসারা দাখিল মাদরাসায় ২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।

 

 

মাত্রাই দাখিল মাদরাসায় ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে দুজন। কাঁটাহার দাখিল মাদরাসায় ২০ জনের মধ্যে তিনজন পাস করেছে, ভূগোইল দাখিল মাদরাসায় ৩৩ জনের মধ্যে পাস করেছে পাঁচজন, শিকটা দাখিল মাদরাসায় ২৪ জনের মধ্যে চারজন পাস করেছে, আর বেগুনগ্রাম ফাজিল মাদরাসায় ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র পাঁচজন।

একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা এবং আরো ছয়টি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চললেও পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয় কেন? শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত বা বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অ্যাকাডেমিক তদারকি করছে কি না—এসব বিষয় এখন সামনে এসেছে।

 

পুর এম. ইউ. (স্নাতক) ফাজিল মাদরাসার অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ফেরদৌস আলী বলেন,‘আসলে ফেল শব্দটি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

পরীক্ষা কেন্দ্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও আমরা দেখেছি। এখন ফলাফলের কারণে সেই গ্লানি আমাদেরই বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।’

স্থানীয় অভিভাবকেরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা স্বাভাবিক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কেন ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফল করছে, তা শুধু ফল প্রকাশের পর আলোচনা না করে আগে থেকেই তদারকি করা প্রয়োজন ছিল। তারা এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

পুর ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সাহেব আলী বলেন, শতভাগ ফেল করার বিষয়ে জবাব দেওয়ার মতো ভাষা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য বোর্ড চ্যালেঞ্জ করা হবে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুনছুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফলাফল কেন এমন হলো, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিজেই বিষয়টি তদারকি করবেন।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।