কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমাটিক ধাঁচের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আবারও অনলাইন দুনিয়ায় আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এআই শিক্ষাবিদ রবিন রাফান। সম্প্রতি তিনি একাধিক এআইনির্ভর সিনেমাটিক ভিডিও এবং সম্পূর্ণ এআইভিত্তিক শর্ট ফিল্ম প্রকাশ করেছেন, যা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
রাফানের প্রকাশিত এসব কনটেন্টে দেখা যায়, কিভাবে উন্নত এআই মডেল ও প্রম্পট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাকশন দৃশ্য, মার্শাল আর্ট ফাইটিং, সুপারহিরো ধাঁচের ভিজ্যুয়াল এবং সিনেমাটিক ক্যামেরা মুভমেন্ট তৈরি করা সম্ভব। সাধারণত এ ধরনের দৃশ্য বড় বাজেটের চলচ্চিত্র প্রযোজনায় ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট টিম ও জটিল প্রোডাকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি করা হয়।
তার প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিও ইতিমধ্যে মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে। অনেক দর্শক প্রথমে এগুলোকে নতুন কোনো চলচ্চিত্রের দৃশ্য বা ট্রেলার বলে ধারণা করেছিলেন। পরে জানা যায় যে, ভিডিওগুলোর অনেকগুলোই তৈরি হয়েছে এআই প্রম্পট ব্যবহার করে ডিজিটালভাবে জেনারেট করা ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবিন রাফান বলেন, ‘আগে সিনেমাটিক দৃশ্য তৈরি করতে বড় বাজেট, গ্রিন স্ক্রিন, ভিএফএক্স টিম এবং বিশাল প্রোডাকশন সেটআপ প্রয়োজন হতো।
এখন উন্নত এআই মডেল এবং সঠিক প্রম্পট ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রেই সিনেমাটিক দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। আমার কনটেন্টের মাধ্যমে আমি মূলত এই সম্ভাবনাটিই দেখানোর চেষ্টা করছি।’
এদিকে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কিছু নির্মাতা এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলেও জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে যে, তাদের একটি শিশু-কেন্দ্রিক অ্যাডভেঞ্চারধর্মী আপকামিং চলচ্চিত্র প্রকল্পে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে ভিজ্যুয়াল দৃশ্যগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করা যায়, সে বিষয়ে রবিন রাফানের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।
ওই প্রযোজনা সংস্থার এক প্রতিনিধি বলেন,
‘বাংলাদেশে রবিন রাফানের এআই নিয়ে কাজ সত্যিই উল্লেখযোগ্য। আমরা নতুন প্রজেক্টে কিছু পরীক্ষামূলক ভিজ্যুয়াল ধারণা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেছি।’
তবে বর্তমানে রবিন রাফান মূলত কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার কাজেই বেশি সময় দিচ্ছেন। তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতাদের এআই-সহায়ক কনটেন্ট পরিকল্পনা, ভিডিও নির্মাণ এবং ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং শেখাচ্ছেন।
তার মতে, ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোনমির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে এআই-ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
রাফান বলেন, ‘যদি কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এআই ব্যবহার করে দক্ষভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারেও কাজ করার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে যেমন বৈদেশিক আয় বাড়তে পারে, তেমনি কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে অনেকেই স্বনির্ভর হওয়ার পথ খুঁজে পাবে।’
ডিজিটাল মিডিয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, এআই-ভিত্তিক ভিডিও নির্মাণ প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি চলচ্চিত্র ও কনটেন্ট নির্মাণ শিল্পে নতুন ধরনের প্রোডাকশন পদ্ধতির সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রবিন রাফানের পরীক্ষামূলক এআই সিনেমাটিক কনটেন্টগুলো কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।