ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চামারুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিশু ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সন্তানের চাপে পড়ে কিংবা খেলনার জিনিস মনে করে অনেক অভিভাবক এ ই-সিগারেট কিনে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনা প্রকাশ করেন খোদ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল রনি নামে একজন কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে গত ৬ মে উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তার বক্তব্যে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা তুলে ধরার সময় চামারুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ঘটনার বর্ণনা দেন। সভায় উপস্থিত সবাই মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনা প্রকাশের পরদিন খোঁজ নিতে ওই বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ কমপক্ষে ৬ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
সেই সাথে বিষয়টি অত্যন্ত ভয়ানক বলে মন্তব্য করে দ্রুত এর একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
দ্বীন ইাসলাম নামে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, নিজ বাড়ির পাশেই এক ব্যক্তি ডিভাইস ব্যবহার করে সিগারেট পান করেন। তরল কিছু একটা দিয়ে টান দিলে ধোয়া বের হয়। এটা দেখে ৫ থেকে ১০ টাকা দিয়ে নিজেরাও এই টান দেয়।পরে তার বাবাকে বললে প্রায় ১৫শ টাকা দিয়ে এই ডিভাইস কিনে আনে। এরপর থেকে সে পান করতে থাকে। কয়েকদিন পর থেকেই তার শরীর দুর্বল লাগে, কোনো কিছু খেতে ইচ্ছা করে না, পড়তে ভালো লাগে না। শুধু ঝিমায়।
চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের চামারুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) রত্না খানম জানান, কয়েক মাস আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় চত্বরেই কী একটা ব্যবহার করে সিগারেটের মতো পান করছে।
আর অনেক ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ ঘটনা কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছিল না। পরে প্রায় ১৫ দিন আগে এ বিষয় নিয়ে একটি অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপস্থিত অভিভাবকরাও নিজেদের সন্তানের মুখে এ ধরনের কথার সত্যতা তুলে ধরেন। অনেক অভিভাবক ওই জিনিসটাকে (ডিভাইস) খেলনা মনে করে নিজ সন্তানদের আবদার মেটানোর কথা অকপটে স্বীকারও করেন। কিন্তু বিষয়টা যে এত ভয়াবহ তা জানতেন না।
তিনি আরো জানান, এর মধ্যে ইন্টারনেট থেকে তথ্য নিয় ই-সিগারেটের কুফল বিষয় বড় প্রজেক্টের মাধ্যমে দেখানো হয়। তবে প্রধান শিক্ষক জানতে পেরেছেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার রায়ের বাজারের অনেক দোকানে এই ডিভাইস কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে অনেকেই তা অবাধে কিনে আনছে। পরে একটা সময়ে কোমলমতি শিশুদের তাতে আকৃষ্ট করাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ই-সিগারেট একটি কৃত্রিম সিগারেট, যা আগুন ধরানো ছাড়াই টান দিলে ধোঁয়া বের হয়। এটি নেশা উদ্দীপক ও মাদকাসক্তি তৈরি করে। ভেপিং ব্যবহারকারীদের শরীরে ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ে, যা মস্তিষ্কে প্রশান্তিদায়ক অনুভূতি তৈরি করে। ফলে এক ধরনের আসক্তি হয়। ই-সিগারেটের তরল মিশ্রণ গরম হয়ে উৎপাদিত ফরমালডিহাইড শরীরে রক্ত সঞ্চালন ক্ষতিগ্রস্ত করে। ই-সিগারেটের ধোঁয়া থেকে যেসব রাসায়নিক পদার্থ বের হয়, তা অন্যান্য স্বাভাবিক তামাকজাত দ্রব্যের মধ্যেও রয়েছে। তাই এর ক্ষতিকর প্রভাব আসল সিগারেটের চেয়ে কম নয়। এই ডিভাইসে থাকা উচ্চমাত্রার নিকোটিন আসক্তি সৃষ্টি করে এবং মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।