যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (১৩ মে) সকাল ছয়টা থেকে উপজেলায় হরতাল পালিত হচ্ছে। হরতালের কারণে মহাসড়ক ও নৌবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
নিহত সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ সরদারের ছেলে। ব্যবসায়িক কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নওয়াপাড়ায় বসবাস করছিলেন।জানা গেছে, নওয়াপাড়ার সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সংগঠনের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই হরতালসমর্থকরা দোকানপাট বন্ধ রেখে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
এসময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও বাঁশ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। ফলে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই সঙ্গে নওয়াপাড়া নৌবন্দরেও কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দেয়। ভৈরব নদে নোঙর করা কার্গো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস, ঘাট ও গোডাউনের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
গত ৬ মে সন্ধ্যায় বাসা ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে আনিসুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আনিসুর রহমানের মালিকানাধীন ‘আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেট’-এর সামনে বসে থাকা অবস্থায় শাহ মো. মাহমুদ নামে এক যুবক তার সামনে গিয়ে প্রথমে চেয়ার লাথি মেরে ফেলে দেন এবং তাকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে কোমর থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল বের করে আনিসুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনিসুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদ হোসেন এবং একই গ্রামের নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘আনিসুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম থেকে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। হরতাল চললেও বিকল্প সড়ক দিয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।