শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার পীরের বাজারে শুরু হয়েছে বৃহৎ বৈশাখী মেলা, স্থানীয়ভাবে যা ‘বান্নি’ নামে পরিচিত। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলাটি চুনারুঘাটসহ সিলেট বিভাগের অন্যতম বৃহৎ বৈশাখী মেলা হিসেবে পরিচিত।
পহেলা বৈশাখের পরদিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলার প্রধান আকর্ষণ কৃষিপণ্যের বিশাল সমাহার। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে লাঙল, জোয়াল, দা, কাঁচি, মই, মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জামসহ নানান কৃষি উপকরণ।পাশাপাশি মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, হস্তশিল্প ও মনিহারি পণ্যেরও চোখ ধাঁধানো উপস্থিতি রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্রেতারা পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। হবিগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকেও ব্যবসায়ীরা এই ঐতিহ্যবাহী মেলায় এসেছেন।
চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন সামছু জানান, এই মেলা মূলত কৃষকদের জন্য।
তবে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের কারণে কৃষিকাজে ব্যবহৃত অনেক ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জামের চাহিদা কমে যাওয়ায় মেলার জৌলুস কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া আশপাশে বসতি গড়ে ওঠায় মেলার পরিসরও আগের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ মেলায় অংশ নিতে আসছেন।
বর্তমানে এই মেলা শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখনও অনেকেই শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করতে এই মেলায় ভিড় জমান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পাশাপাশি মেলায় আয়োজন করা হচ্ছে গ্রামীণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।

















আপনার মতামত লিখুন :