শিরোনামঃ
সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ,অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ ঈদের দিন ৫ বিভাগে ভারি বৃষ্টির শঙ্কা, কমতে পারে তাপমাত্রা কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি : মির্জা ফখরুল পশুর হাট এলাকায় ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়ানোর নির্দেশ কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের সাক্ষাৎ ফরিদপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফরিদপুরে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ ফরিদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে আইনজীবীদের মানববন্ধন ফরিদপুরে বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে জমজমাট পতাকা ও সামগ্রীর বেচাকেনা ফরিদপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে অসহায়দের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
প্রতিনিধি নিয়োগ নোটিশ :
দৈনিক দেশের প্রত্যয় নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। সারাদেশে-জেলা,উপজেলা, ভ্রাম্যমাণ,ব্যুরো প্রধান,হেড অব মার্কেটিং সহ বিভিন্ন পদে প্রতিনিধি নিয়োগ দিবে দৈনিক দেশের প্রত্যয় মাল্টিমিডিয়া। আগ্রহীদের সিভি পাঠানোর ঠিকানা desherprottoy@gmail.com অথবা 01841972873 (শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ)প্রিয় পাঠক,দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

সেদিন রসগোল্লা খাইয়েও শুভেন্দুকে তৃণমূলে রাখতে পারেননি অভিষেক

অনলাইন ড্রেস / ৩৭ প্রকাশিত সময়:
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল শুক্রবার বিজেপির জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার নাম চূড়ান্ত করেন।

 

এবারের নির্বাচনে যার কাছে বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই শুভেন্দু অধিকারীকে পাঁচ বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেস না ছাড়াতে অনেক চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনকি গোপন এক বৈঠকে রসগোল্লা খাইয়েও শুভেন্দুকে তৃণমূলে রাখতে পারেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

এখন দলের ভরাডুবির পর অনেক নেতাই প্রশ্ন তুলছেন অভিষেকের ‘দ্রুত উত্থান’ নিয়ে।

দলের একাংশের মতে, ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেককে লোকসভা প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত থেকেই দলের ভেতরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হতে শুরু করে। সে সময় আপত্তি জানিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায়।

 

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুই মাসের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভেতরে পরিবর্তন শুরু হয়।

 

 

ওই বছর ব্রিগেডে শহিদ দিবসের সভায় প্রথম বড়ভাবে সামনে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি মমতার ভাইপো হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

সেই সভাতেই ‘যুবা’ নামে নতুন একটি সংগঠন গঠন করা হয় এবং তার দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিষেককে। কিন্তু আগে থেকেই দলের যুব সংগঠন ছিল ‘যুব তৃণমূল’, যার সভাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।পরে শুভেন্দুকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সংগঠনের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়।

এই পরিবর্তন ঘিরে দলে প্রশ্ন ওঠে, আগে থেকেই যুব সংগঠন থাকলে নতুন সংগঠন কেন তৈরি করা হলো। অনেকের মতে, ধীরে ধীরে শুভেন্দুর জায়গায় অভিষেককে সামনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে যুব তৃণমূলের নেতৃত্ব অভিষেকের হাতে গেলে সেই ধারণাই আরো শক্ত হয়। এর পর থেকেই শুভেন্দু ও অভিষেকের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়তে শুরু করে বলে তৃণমূলের অন্দরে আলোচনা হয়।

 

 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত ১৫ বছরে শুভেন্দু ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার নেতা হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু অভিষেকের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু দলের ভেতরে কোণঠাসা হতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

 

তারপর ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। গত পাঁচ বছর তিনি মমতাকে আক্রমণ করে রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠেন। এবার ভবানীপুরেও মমতাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছে গেলেন।

 

শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থানের শুরু হয়েছিল নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন থেকে। সেই আন্দোলনে মমতা ছিলেন প্রধান, আর মাঠের সংগঠনের দায়িত্ব সামলাতেন শুভেন্দু। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হলেও সময়ের সঙ্গে তিনিই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।২০১১ সালের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অভিষেক ও শুভেন্দুর দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। যুব সংগঠনের নেতৃত্ব, দলীয় প্রভাব বিস্তার, প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর সেই সংঘাত আরো তীব্র হয়।

 

পরবর্তী সময়ে আই-প্যাককে নিয়ে তৃণমূলের সংগঠনে বড় পরিবর্তন আনা হয়। জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষকব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়, যেখানে শুভেন্দুর শক্ত প্রভাব ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুভেন্দুর সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে যায়।

 

তবে ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীকে দলে রাখার চেষ্টা চলছিল। কারণ তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সময় ১ ডিসেম্বর শ্যামবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে শুভেন্দু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোর এবং দুই বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায় উপস্থিত ছিলেন।

 

বৈঠকের সময় অভিষেকের ফোন থেকে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। তবুও মতবিরোধ মেটেনি। পরে অভিষেক শুভেন্দুকে মিষ্টি খাইয়ে দলে রাখার চেষ্টা করলেও সিদ্ধান্তে বদল হয়নি।

 

শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অমিত শাহর হাত ধরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতির সময় থেকেই শুভেন্দু আলাদা রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন। জঙ্গলমহলে নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চালান এবং ধীরে ধীরে মন্ত্রিত্ব, চেয়ারম্যান পদ ও বিধায়ক পদ ছাড়েন। এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের মঞ্চে যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল, ভবানীপুরের নির্বাচনে এসে তার পূর্ণতা মিলল। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সেনা শুভেন্দুই এখন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।


More News Of This Category