আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার-বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, শহরের ক্রমবর্ধমান মশক সমস্যা মোকাবেলা এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পেইনটি ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে।এতে কীটতত্ত্ববিদ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কীটনিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেবেন।
এই অভিযানের আওতায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, সচেতনতামূলক র্যালি, লিফলেট বিতরণ এবং গণযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রতি শনিবার বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।সেই নির্দেশনার আলোকে আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে এই ক্যাম্পেইন শুরু করছি। সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরো জানান, আইইডিসিআর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ড এডিস মশার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ওয়ার্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মার্চ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। এডিস মশা সাধারণত বাসাবাড়ি বা আশপাশে পড়ে থাকা অব্যবহৃত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা উপাসনালয়ের আশপাশে জমে থাকা পানিও এডিস মশার অন্যতম প্রধান প্রজননস্থল।
ডিএনসিসি বলছে, বর্ষা শুরুর আগেই এসব সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই সময়ের আগেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করে এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হচ্ছে।