শিরোনামঃ

ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জার মৃত্যু: স্বাভাবিক নাকি রহস্যজনক? তদন্তের দাবিতে উত্তাল মধুখালী

admin5
ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জার মৃত্যু: স্বাভাবিক নাকি রহস্যজনক? তদন্তের দাবিতে উত্তাল মধুখালী
Getting your Trinity Audio player ready...

ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জার মৃত্যু: স্বাভাবিক নাকি রহস্যজনক? তদন্তের দাবিতে উত্তাল মধুখালী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জার ডিবি পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে দাবি করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল প্রান্ত মির্জাকে আটক করে। ডিবির দাবি, রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। এ ঘটনায় মধুখালী থানায় নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার নম্বর মধুখালী-১৬, তারিখ ২১ জুন ২০২৬।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে প্রান্তকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তিনি নাস্তা করেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করেন। এরপর হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করতে থাকেন এবং প্রচণ্ড ঘামতে থাকেন বলে অন্যান্য আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

ওসি আরও জানান, বিষয়টি জানার পর ডিউটি অফিসার, সেন্ট্রি ও অন্যান্যরা তাকে প্রাথমিকভাবে সহায়তা করেন এবং দ্রুত ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে সকাল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে তাকে ব্রেন স্ট্রোকজনিত জটিলতায় আক্রান্ত বলে ধারণা দিয়েছেন এবং মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, প্রান্ত মির্জার পরিবারের দাবি, তাকে বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রান্ত মির্জার বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি মাদক মামলা ছিল। এছাড়া আটকের পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও অতিরিক্ত কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি।

ঘটনার পর মধুখালী এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক মতামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।