ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ফেসবুকে প্রচারের একটি ভিডিও ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাবলাতলা এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা, শড়কি ও ইটপাটকেল নিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ শুরু হয়ে চলে ঘণ্টাব্যাপী। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। তাদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের সময় চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দা ও টিকটকার আকরাম খান ফেসবুক লাইভ করেন। লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অনেক উপকারভোগীকে ৭ থেকে ৮ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবারও একই কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিন সন্ধ্যায় ভাঙ্গার বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আকরাম খানের সঙ্গে চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লার ভাই চন্দন মোল্লার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের বিরোধও এ সংঘর্ষকে উস্কে দেয় দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
চুমুরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ মোল্লা বলেন, ‘চাল বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন মেম্বাররা। আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে তথ্য যাচাই ছাড়া অপপ্রচার চালানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রতিপক্ষ হামলা চালায় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’
লাইভ করা আকরাম খান বলেন, ‘গরিব মানুষের প্রাপ্য চাল কম দেওয়া হচ্ছিল বলেই আমি লাইভ করেছি। পরে প্রশাসনও বিষয়টি দেখতে আসে। কিন্তু আমাকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’ভাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল আমিন মিয়া বলেন, ‘চুমুরদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যানপক্ষ ও প্রতিপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ছিল। সাম্প্রতিক একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’