স্বপ্ন ছিল ইতালিতে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে তুহিন সরকারের জীবনে।
ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচার চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন জিম্মি রেখে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। এমন অভিযোগ উঠেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার দুই দালালের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার যুবক তুহিন সরকার (২৬) সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরে অসুস্থ অবস্থায় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নির্যাতনের শিকার তুহিন সরকার (২৬) সদর উপজেলার চৌহদ্দী ইউনিয়নের কেন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লক্ষণ সরকারের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন–একই এলাকার অপূর্ব সরকার ও দেবাশিষ বাড়ৈ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তারা ইতালি পাঠানোর কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে মোট ১৬ লাখ টাকা নেয়।তুহিন সরকার বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর দালাল চক্র তাকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে স্থানীয় মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে আরো ২৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
একপর্যায়ে লিবিয়ার সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছ থেকে তুহিনসহ আরো ১৭৪ জনকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে লিবিয়া সরকারের সহায়তায় গত ২৪ মে সরকারি খরচে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।’
দেশে ফেরার পর সোমবার (২৫ মে) নিজ বাড়িতে এসে তুহিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মানবপাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’