ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ।
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার বাড়লেও দক্ষতা ও ব্যবহারের ধরনে বৈচিত্র্য এবং বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক জরিপে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারে মৌলিক দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কপি-পেস্ট করার প্রবণতা, যা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে বিদ্যমান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক প্রকল্পের জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জরিপে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন।তবে এই ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। শহর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।
জরিপে আরো দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজেছেন, যা সর্বোচ্চ।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে কপি-পেস্ট করার মতো মৌলিক কাজের বাইরে নিরাপত্তা সচেতনতার কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে জরিপে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা সাইবার আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ঝুঁকির জায়গাও রয়েছে।ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার।
এ ছাড়া, উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট সেবা গ্রহণে অনাগ্রহী বলে জানিয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জরিপের এ ফলাফল থেকে স্পষ্ট, দেশে ইন্টারনেটের প্রসার ঘটলেও এর সুষম ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী সেবার নিশ্চয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।