সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের মোট ৩০ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার প্রথম আঘাত হানার এক মিনিটের মধ্যে তারা প্রাণ হারান।
চ্যানেল-১২ এর ওয়েবসাইট এন১২-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল জোর দিয়ে বলছে, তারা অভিযান কেবল শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যান্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিবিড় পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে।
তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইয়োভ লিমোর সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শিগগিরই মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। এই সংঘাত কয়েক দিন বা সপ্তাহ, এমনকি আরো দীর্ঘ সময় চালিয়ে নেওয়ার মতো ধৈর্য ও প্রস্তুতি ইসরায়েলের থাকলেও ট্রাম্পের সেই ধৈর্য বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
দেশটির প্রবীণ সাংবাদিক নাহুম বারনিয়া উল্লেখ করেছেন, ‘আমেরিকার জন্য এটা একটি পছন্দের যুদ্ধ, কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এটি একটি প্রয়োজনের যুদ্ধ।
’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন থাকলেও তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের পরিবর্তনের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার পরিচালিত হামলায় ইরানের একাধিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একযোগে তিনটি আলাদা স্থানে আঘাত হানা হয়। এসব স্থানে ইরান সরকারের সদস্যরা একত্রিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তারা আরো জানান, নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় এ হামলা পরিচালনা করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পাশাপাশি আইডিএফ সতর্কবার্তা দিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত।