সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, মোঃ ইনসাফ আলী
সিরাজগঞ্জ: কারিগরি শিক্ষাই আগামীর
বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার। সেই লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আধুনিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও শিল্প উপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে কিছু দিকনির্দেশনা ও বাস্তবভিত্তিক দাবি উঠে এসেছে। সরকার যদি এসব দাবি মেনে নেয়, তাহলে জেলার হাজারো তরুণ-তরুণী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা ও ভালো দিক
সিরাজগঞ্জ সদরের খোকশাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ২০১০ সাল থেকে জেলার একমাত্র সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল, কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।নতুন একাডেমিক ভবন, নিয়মিত সাংস্কৃতিক ও প্রজেক্ট শো, এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোেগ প্রতিষ্ঠানটির বড় শক্তি। এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।
কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে দিকনির্দেশনা
শিক্ষক ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যে পদক্ষেপগুলো জরুরি:
1. শিল্প সংযুক্তি শক্তিশালী করা: স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল মিল ও পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে MoU করে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
2. আধুনিক ল্যাব স্থাপন: পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে PLC, IoT, CNC ও AI ভিত্তিক ল্যাব স্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী হয়।
3. শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ: শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ এবং শিক্ষকদের জন্য রিফ্রেশার ট্রেনিং চালু করা।
4. উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র: শিক্ষার্থীদের নিজস্ব স্টার্টআপ শুরু করার জন্য ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা।5. ডিজিটাল অবকাঠামো: নিরবচ্ছিন্ন
ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম ও অনলাইন লাইব্রেরি চালু করা।
শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি
সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পেশ করা দাবিগুলো হলো:
1. শিক্ষক সংকট নিরসন: ক্রিয়েটেড পোস্টের বিপরীতে দ্রুত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োেগ দেওয়া হোক। অতিথি শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘদিন ক্লাস চালানো সম্ভব নয়।
2. আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ: প্রতিটি বিভাগের ল্যাবের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার বরাদ্দ করা হোক। ব্যবহারিক ক্লাস যেন শুধু খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।
3. ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল সম্প্রসারণ: আবাসন সংকটে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে না। নতুন হোস্টেল নির্মাণ ও বিদ্যমান হোস্টেলের সংস্কার জরুরি।
4. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং বাধ্যতামূলক ও সহায়তাযুক্ত করা: প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সব শিক্ষার্থীর জন্য নিশ্চিত শিল্প সংযুক্তি প্রশিক্ষণ5. বৃত্তি ও কর্মসংস্থান মেলা আয়োজন: মেধাবী
ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বৃদ্ধি এবং প্রতি বছর ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট মেলা আয়োজন করা হোক।
শিক্ষার্থীরা যা বলছেন
সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “আমরা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, কিন্তু মেশিন না থাকলে হাতে-কলমে শিখব কীভাবে? সরকার যদি ল্যাব আধুনিক করে দেয়, আমরা দেশের জন্য কাজ করতে পারব।”
প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ ও যন্ত্রপাতির জন্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিককে মডেল পলিটেকনিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভবশেষ কথা
সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি উত্তরবঙ্গের কারিগরি জনশক্তি গড়ার কারখানা। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হবে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী একঝাঁক তরুণ ইঞ্জিনিয়ার।
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন।
সিরাজগঞ্জ থেকে সেই যাত্রা শুরু হোক।