রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছবি তোলা এবং ভুল শিক্ষাবর্ষ পরিচয় দেওয়াকে’ কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ সংঘর্ষে জড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগের জুনিয়রদের সঙ্গে বসেছিল। র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না জানতে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি অভিযানে যান। কিন্তু এ ধরনের কোনো আলামত না পেয়ে সেখান থেকে তারা চলে আসেন।
অভিযানের ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আল জাবিদ হাসান। এরপর ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন জাবিদ ঘটনার ছবি তুলে প্রশাসনকে পাঠিয়েছেন। এ সময় তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। পরে উভয় বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা এসে ঘটনার সমঝোতা করেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, গতকালকের ঘটনার জেরে আজকে ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাবিদ ও তাঁর কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় গতকাল কেন ভুল শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিয়েছেন তা একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উভয়পক্ষের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে বিষয়টির আবার মীমাংসা করেন। পরে জাবিদ ও তার কয়েকজন সহপাঠী পরিবহন মার্কেট দিয়ে যাওয়ার সময় ইইই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী জাবিদের এক নারী সহপাঠীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপু গতকাল তো প্রক্টরকে কল দিয়েছিলেন, আজকে কি দিবেন না, গতকাল প্রক্টর তো কিছু করতে পারেনি।’।
এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আবার বাগবিতণ্ডা দেখা দেয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে তাদের সামনেই হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে দুই বিভাগের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি আপাতত সমাধান হয়েছে।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবর রহমান বলেন, ‘গতকাল ইইই বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী তাদের জুনিয়রদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ডিনস কমপ্লেক্স ভবনের সামনে বসেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা সেখানে যান। কিন্তু সেখানে কোনো র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি ফলিত রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী ওই সময় তাদের ছবি তুলেছে এবং অন্য সেশনের পরিচয় দিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েই আজকে দুপুরে আবার ঝামেলা বাধে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়।’এ ঘটনায় প্রশাসনের থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টিকে দুই বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।’