শিরোনামঃ

পটিয়া নানা সংকটে অনিশ্চয়তায় ইন্দ্রপুল লবণ শিল্পাঞ্চল

অনলাইন ড্রেস
পটিয়া নানা সংকটে অনিশ্চয়তায় ইন্দ্রপুল লবণ শিল্পাঞ্চল
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের চামড়াশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয় বিশেষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হয় বিপুলপরিমাণ লবণ।

 

 

সেই চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই পূরণ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্পাঞ্চল। কিন্তু এখন ক্রেতা সংকট, অর্থ সংকটে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এই শিল্পাঞ্চল।

ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে পটিয়ার ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৪০টি ছোট-বড় লবণ শোধনাগারে লক্ষাধিক টন ক্রুড লবণ মজুদ রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার ট্যানারি ও চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে কয়েক হাজার টন করে লবণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

 

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টন লবণ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়েছে। শত বছরের পুরনো এই শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কর্ণফুলী নদী ও উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ সুবিধা ঘিরে এখানে গড়ে ওঠে অসংখ্য লবণ মিল ও গুদাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রুড লবণ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।কোরবানির ঈদে এই শিল্পাঞ্চলে বাড়ে ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চামড়া ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন লবণ সংগ্রহ করতে। কারণ একটি গরু বা মহিষের চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজন হয় আট থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ। ফলে ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই জমে ওঠে ইন্দ্রপুলের লবণ বাজার। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা চিত্রে ভাটা পড়েছে।

 

 

 

মিল মালিকদের দাবি, পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকলেও আগের মতো ক্রেতা নেই বাজারে।

 

লবণশিল্প এলাকার ইসলামাবাদ সল্ট ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদুচ ছমদ হেলাল বলেন, পটিয়ায় পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে। কিন্তু চামড়া ব্যবসায়ীরা আগের মতো লবণ কিনতে আসছেন না। আমরা যতটুকু জেনেছি, তারা ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে গত বছরের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় অর্থ সংকটে রয়েছেন।

 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরো বলেন, এবার পটিয়া থেকে এক লাখ টনের বেশি ক্রুড লবণ সরবরাহের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু ঈদের পর দিন আজ (শুক্রবার) পর্যন্ত মাত্র ৩০ হাজার টন বিক্রি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও মোহাম্মদীয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, সারা দেশের মোট চাহিদার ৪০ ভাগ পটিয়া থেকে সরবরাহ করা হয়। অথচ ঈদের সময়ও প্রত্যাশিত বিক্রি নেই। চামড়া ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা না থাকায় তারা লবণ সংগ্রহে পিছিয়ে। তিনি সরকারের প্রতি চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

 

তবে লবণ মিল মালিকদের দাবি, ঈদ উপলক্ষে ক্রুড লবণের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রতিবস্তা লবণ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও পটিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৭৫ কেজির প্রতিবস্তা লবণের দাম ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। গত বছর একটি চামড়া সংরক্ষণে পরিবহন, শ্রমিক ও লবণসহ খরচ পড়ত ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু এবার লবণ, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই খরচ দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

 

চামড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশে এখনো দক্ষ চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ শ্রমিকের তীব্র অভাব রয়েছে। অসতর্কতা ও অদক্ষতার কারণে প্রতিবছর সংগ্রহ করা চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নিম্নমানের হয়।

 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চামড়া সংরক্ষণে দক্ষতা বাড়াতে মাদরাসা শিক্ষার্থী ও মাংস শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণের জন্য সরকার প্রায় ১৭ কোটি টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সেই উদ্যোগ এখনো তৃণমূল পর্যায়ে পুরোপুরি পৌঁছেনি।বিসিক কর্মকর্তা জানান, সরকার চামড়াশিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে লবণ বিতরণের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।