কর্মহীন ৫০ হাজার ১০০ তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৬৮৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।
এতে প্রশিক্ষণার্থীপ্রতি সরকারের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭ টাকা।
তবে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বেসরকারি পর্যায়ে তিন থেকে চার মাসের ফ্রিল্যান্সিং কোর্সে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হয়। সে হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে সরকারি প্রকল্পে একজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য বরাদ্দ প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি।
এক প্রতিবেদনে বণিক বার্তা জানায়, পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৫০ হাজার ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের ৫০১টি ওয়ার্ডের কর্মহীন যুবক ও যুব নারীদের লক্ষ্য করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণের মেয়াদ তিন মাস। মোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচে প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণ নেবেন ২৫ জন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এর প্রয়োজনীয়তা, ব্যয়ের খাত, বাস্তবায়ন কাঠামো ও সম্ভাব্য সুফল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পিইসি পর্যায়ে অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনায় পাঠানো হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের সঙ্গে এটি একীভূত করা, মেয়াদ কমানো, পরামর্শক ব্যয় এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের যুক্ত করার বিষয়গুলো পিইসি সভায় আলোচিত হতে পারে।
এদিকে সরকারি প্রশিক্ষণের উচ্চ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য বিপুল সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেট ও ইউটিউবের মাধ্যমেও শেখার সুযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, বাজারে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায়ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়।
বর্তমান প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের ডিজিটাল স্কিল, ক্লায়েন্ট ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ছয় মাসের মধ্যে আয় শুরু করানো এবং ৬০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীকে আয়মূলক কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, প্রকল্পের ব্যয় শুধু প্রশিক্ষণ বাবদ নয়। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে খাবার, প্রতিদিন ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য অন্যান্য সহায়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :