অর্ধশতাধিক নদ-নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ঈদুল আজহা মানেই অনেক পরিবারের জন্য কেবল ঈদের নামাজ। অভাব, নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করা চরবাসীর অধিকাংশ চরে কোরবানি ছিল না।
তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দম্পতি মো. আসাদুজ্জামান আনসারী ও অ্যাডভোকেট নূর উন নাহার আনসারীর উদ্যোগে দুটি গরু কোরবানি হওয়ায় শতাধিক পরিবার ঈদের দিন গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের দেওয়া মাংসেই কোরবানিবঞ্চিত অর্ধশতাধিক পরিবারে ঈদের আনন্দ ফিরেছে।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বতুয়াতলি, বালাডোবার চর ও পাশের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের সাতাশ দাগের চরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার এসব চরে অধিকাংশ পরিবার কোরবানি দিতে পারেনি। কোথাও একটি ছাগল কোরবানি হয়েছে, আবার কোথাও সেটিও হয়নি।অনেক পরিবার ঈদের দিনে মুরগি কিনে রান্না করেছে, কেউ সেটিও পারেনি।
উলিপুরের বাসিন্দা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান আনসারী ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট নূর উন নাহার আনসারী দুটি গরু কোরবানি দিয়ে চরবাসীর মধ্যে মাংস বিতরণ করেন। এতে দুই ইউনিয়নের কোরবানিবঞ্চিত পরিবারগুলো ঈদের দিনে গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পায়।বতুয়াতলি গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুতজামাল বলেন, নদীভাঙনে ভাঙতে ভাঙতে আমরা একেবারে কাহিল।
ঈদের নামাজের পর চরে কোরবানির কোনো আনন্দ ছিল না। আনসারী পরিবার গরু কিনে কোরবানি দেওয়ায় এবার অন্তত গরুর গোশত খাইতে পারমু। চরের মানুষও খুশি।
বালাডোবার চরের বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, চরে কোনো কোরবানি ছিল না। যার সামর্থ্য আছে, সে মোল্লারহাট থেকে ব্রয়লার মুরগি কিনে এনেছে।
অনেকেই সেটাও পারেনি। পরে আনসারী পরিবারের দেওয়া এক কেজি করে গোশত পেয়ে সবাই খুশি হইছে। মনে হইছে, ঈদ সবার জন্য সমান হইছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক চরে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। তাদের কেউ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, কেউ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁত কারখানায় কাজ করেন, আবার কেউ কৃষি বা নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। বন্যা ও নদীভাঙন এসব মানুষের নিত্যসঙ্গী।
বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন, বালাডোবার চর, মুসার চর ও বতুয়াতলি তার ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শুধু ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে আনসারী দম্পতি গরু কিনে কোরবানি দেওয়ায় চরের মানুষের ঈদ আনন্দময় হয়েছে। সামর্থ্যবানদের এভাবে এগিয়ে আসা দরকার।এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আনসারী বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই আমরা কয়েকটি চরে একটি করে গরু কোরবানি দিয়ে আসছি। এবার দুটি গরু কোরবানি দিয়েছি। আল্লাহ সামর্থ্য দিলে ভবিষ্যতে এটা আরো বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, ভালো কাজের প্রচার থাকলে অন্যরাও উৎসাহিত হন। আমি নিজেও অন্য একজনকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। কোরবানি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি। তবে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে মাংস তুলে দিতে পারলে নিজেরও ভালো লাগে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
















আপনার মতামত লিখুন :