সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়ায় এর আগে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছিলেন। সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে ফেরত নেওয়ায় দুই সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে ফেরত নেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এর প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন হয়েছে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।
এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা গুরুতর আদালত অবমাননা। আমরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করব।’সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নেটিশ পাঠানো হয়েছে। অনুরোধ না মানলে দুই সচিবের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।
গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ৪ আইনজীবীর পক্ষে ই-মেইল ও রেজিস্ট্রি ডাকে নোটিশটি পাঠান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাকে নোটিশটি পাঠানো হয়।
পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই সচিব নোটিশের কী জবাব দেন, এর ওপর ভিত্তি করে অথবা জবাব না দিলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করব।’
এক রিট মামলায় চূড়ান্ত শুনানির পর গত বছর ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়।এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ মাসের মধ্যে গত বছর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশ জারির পরদিনই অর্থাৎ গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সচিবালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই দিনই সচিবালয়ের জন্য পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা বিন্যাসে সংক্রান্ত ‘পদ সৃজন’ কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিচার বিভাগের প্রধান। ওই ভবনেই চলে আসছিল সচিবালয়ের কাজ। এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয় সংসদে।
এই বিল পাশের পর গত ১৯ এপ্রিল ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করেন ৭ আইনজীবী, যা গত ২০ এপ্রিল শুনানিতে ওঠার পর মুলতবি করেন হাইকোর্ট। রিটে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের চলমান কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রহিত করা আইনটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয় রিটে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের খবরে গত ৫ মে চার আইনজীবীর পক্ষে ই-মেইল ও রেজিস্ট্রি ডাকে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নেটিশ পাঠান শিশির মনির। দুই সচিব নোটিশের কী জবাব দেন, এর ওপর ভিত্তি করে অথবা জবাব না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করার কথা বলা হয়েছিল নোটিশে।
বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।




















আপনার মতামত লিখুন :