দেশব্যাপী আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্যায়ের জন্য নির্বাচিত হয়ে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে দুই উদীয়মান সাঁতারু শেরপুরের রাকিব মিয়া এবং গাজীপুরের শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াজ।
অভাব আর প্রতিকূলতাকে জয় করে তাদের এই এগিয়ে চলা এখন অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস।
শেরপুর সুইমিং একাডেমির ছাত্র রাকিব মিয়া জেলা পর্যায়ে ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টে সোনার পদক জিতে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই কিশোরের স্বপ্ন আকাশচুম্বী। সে ভবিষ্যতে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চায়।
তবে এই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম দারিদ্র্য। রাজমিস্ত্রি বাবা সাইদ মিয়া ও গৃহিণী মা রোকসানার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। তাই রাকিবের মতো একজন সাঁতারুর জন্য উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার ও নিয়মিত অনুশীলনের খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু আর্থিক সংকটই নয়, শেরপুরে একটি আধুনিক সুইমিং পুলের অভাবও তাকে ভোগাচ্ছে।জেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন এবং মানববন্ধন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় রাকিবের আকুল আবেদন@জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুরটি যেন সাঁতারের উপযোগী করে সংস্কার করা হয়।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাকিবের মতো এমন প্রতিভাবান ও লড়াকু অ্যাথলেটের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে উঠে এসেছে আরেক সাঁতারু শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াজ। শ্রীপুর ভাঙনাহাটি রহমানিয়া কামিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্র নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সাঁতার প্রতিযোগিতায় ফ্রি স্টাইল ও ব্রেস্টস্ট্রোক বিভাগে প্রথম হয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবা আনোয়ার হোসেন এবং মা শারমিন আক্তারের সন্তান রিয়াজ খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী।
তার বাবার স্বপ্ন, ছেলে একদিকে যেমন দেশের সেরা সাঁতারু হয়ে উঠবে, অন্যদিকে বড় আলেম হয়ে সমাজের সেবা করবে।
অভাব আর সীমাবদ্ধতার দেয়াল টপকে রাকিব ও রিয়াজের মতো খুদে সাঁতারুরা যেভাবে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে, তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক।
সঠিক পরিচর্যা আর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেলে এই কিশোররাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজ পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস ক্রীড়াপ্রেমীদের।