দেশের ৯ জেলায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।
এদিন ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর পুনঃ ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত সারা দেশের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।এদিকে, দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নিচ্ছে একের পর এক প্রাণ। বুধবার দেশের ১০ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে চারজন, জামালপুরে দুজন, বরগুনায় দুজন, পিরোজপুরে দুজন, ময়মনসিংহে একজন, বাগেরহাটে একজন, রংপুরে একজন, রাজবাড়ীতে একজন, গাজীপুরে একজন ও শরীয়তপুর একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৪ জন মারা যান। এর পরের দিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ছয় কৃষকসহ মোট আট জনের প্রাণহানি ঘটে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই।’
যেভাবে সতর্ক থাকবেন
আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এসব পরামর্শ প্রতিপালন করলে বজ্রপাত থেকে মিলবে সুরক্ষা।
আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা গেলে বা বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।বজ্রধ্বনি শোনা গেলে শিশুদেরসহ পরিবারের সবাইকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে হবে। এ সময় মাঠে খেলাধুলা বা ঘুড়ি ওড়ানো এবং দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বাড়িতে অবস্থান করলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। শিলা কুড়ানো বা উঠানে থাকা যাবে না এবং জানালার গ্রিলসহ কোনো ধাতব অংশ স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘরের বাইরে থাকলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। মাটিতে শুয়ে পড়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গাছের নিচে বা ধাতব ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নদী, হাওর বা জলাশয়ে নেমে মাছ ধরা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক লাইন, ধাতব বস্তু বা সংযুক্ত যন্ত্রপাতি স্পর্শ না করার নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।
বজ্রধ্বনি শোনা মানেই বজ্রপাতের ঝুঁকির মধ্যে থাকা। তাই শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পরও অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।