বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এই লক্ষ্য অর্জনে চা চাষের উপযোগী অব্যবহৃত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের সম্পৃক্ততাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চা বোর্ডের তথ্য মতে, শুধু সাধারণ চা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গ্রিন টি, উলং টি এবং হোয়াইট টি-এর মতো ভ্যালু-অ্যাডেড চা উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এ জন্য জলবায়ু ও খরাসহনশীল জাতের চারা রোপণ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা-বাগান রয়েছে, যেখানে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। আরো প্রায় ১৬ হাজার ১৩০ একর উপযোগী জমি চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উৎপাদনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ২০২৩ সালে ১০২.৯২ মিলিয়ন কেজি (সর্বোচ্চ উৎপাদন), ২০২৪ সালে ৯৩.০৪ মিলিয়ন কেজি ও ২০২৫ সালে ৯৪.৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে ১০৪ মিলিয়ন কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
চায়ের গুণগত মান ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, চা-শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিটিআরআই নিয়মিত বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাগান মালিকদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৃষিঋণ ও ভর্তুকি
মূল্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।