বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘দেশের এলপিজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না দেওয়ায় গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশের মতো স্টেশন বন্ধ ছিল। অনেক স্টেশন সীমিত অবস্থায় চালু ছিল।’ কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল বুধবার থেকে প্রায় প্রত্যেকটি স্টেশনে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।গতকাল বুধবার ‘৩০% এলপিজি স্টেশন বন্ধ’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি বাড়লেও বাজারে এর সংকট কাটেনি; বরং সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ এলপিজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। চালু থাকা অনেক স্টেশন সীমিতভাবে গ্যাস সরবরাহ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এলপিজি বা অটোগ্যাসচালিত যানবাহনের চালকরা।খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে দেশে দেড় থেকে দুই লাখ এলপিজিচালিত যানবাহন রয়েছে।
এসব যানবাহনের চালকরা অনেক ক্ষেত্রে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ঘুরেও খালি হাতে ফিরছেন। এতে বাধ্য হয়ে তারা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) বা অকটেনের মতো বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন, যা অন্যান্য জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০টি এলপিজি অপারেটরের মধ্যে মাত্র ছয় থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।ফলে অধিকাংশ এলপিজি স্টেশন প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছে না এবং অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের মতে, এই সংকটের ফলে শুধু পরিবহন খাতই নয়, পুরো জ্বালানিব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এলপিজি বা অটোগ্যাসের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ না থাকায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে স্টেশন মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ ১১ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।ফলে অধিকাংশ এলপিজি স্টেশন প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছে না এবং অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের মতে, এই সংকটের ফলে শুধু পরিবহন খাতই নয়, পুরো জ্বালানিব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এলপিজি বা অটোগ্যাসের চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ না থাকায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে স্টেশন মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ভোক্তারা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ ১১ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি।ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে আমদানি বাড়লেও বাজারে সেই প্রভাব পড়ছে না।
বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে চলমান এলপিজি সংকটের কারণে অধিকাংশ এলপিজি স্টেশন প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে না। ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে একটি বড় সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ আমদানিকারক এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। যেসব স্টেশনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের চুক্তি রয়েছে, তাঁরা এলপিজি না পাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুতর সমস্যায় পড়ছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে গ্রাহক পর্যায়ে, বিশেষ করে এলপিজিচালিত যানবাহনের ওপর।
তিনি বলেন, ‘দেশে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ এলপিজিচালিত গাড়ি রয়েছে, যেগুলো গ্যাস না পেয়ে সিএনজি বা অকটেনের দিকে ঝুঁকছে। এতে অন্যান্য জ্বালানির ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশের পাম্পগুলো থেকে জ্বালানি তেল নিতে গাড়িচালকদের ভোগান্তির কারণে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে অটোগ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে স্টেশন মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে গাড়ির মালিকরা জ্বালানি পরিবর্তনে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বহন করছেন।’
ইঞ্জি. মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘অকটেন ও সিএনজির তুলনায় এলপিজির দাম অস্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই ধরনের যানবাহনে একাধিক জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ
থাকলেও দামের এই অসামঞ্জস্য ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করছে এবং বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
সভাপতি বলেন, ‘এলপিজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য আমরা বিইআরসি চেয়ারম্যান ও জ্বালানি সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে আমরা উল্লেখ করেছি, আমাদের স্টেশনগুলোতে মাসে ১৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি লাগে। অপারেটরদের বলে এই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়। তার পরও কোনো উন্নতি নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, এলপিজি স্টেশনগুলো গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে বাড়তি লাভের আশায় রান্নায় সিলিন্ডারে রিফিল করছে। বিইআরসি দরের চেয়ে বেশি দরে সিলিন্ডারে রিফিল করে এলপিজি বিক্রি করছেন অনেক অপারেটর। এতে বর্তমানে দেশের ৮০ শতাংশ এলপিজি স্টেশন লসে চলছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে গতকাল এলপিজি অপারেটর অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে এলপিজি আমদানি বেড়েছে; ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির তুলনায় বেশি এবং মার্চে তা আরো বেড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কম্পানিগুলো বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি
সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এলপিজি আমদানি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি অব্যাহত রয়েছে। মাসিক চাহিদা সাধারণত দেড় লাখ টনের মধ্যে থাকলেও কোনো মাসে এর বেশি আমদানি করা হতে পারে। তবে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ডিলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ডিলাররা যদি পণ্য মজুদ করে রাখেন, তাহলে খুচরা পর্যায়ে সংকট দেখা দিতে পারে, যা
সরাসরি আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।’
এলপিজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ বিঘ্নের বিষয়ে লোয়াব সভাপতি বলেন, স্টেশন পরিচালনা বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে নেই। কোথাও পণ্য সরবরাহ হলো কি না বা কে গ্রহণ করল, এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট বিতরণ পর্যায়ের সঙ্গে জড়িত। এ কারণে মাঠপর্যায়ে সৃষ্ট সমস্যার জন্য এককভাবে আমদানিকারকদের দায়ী করা সঠিক নয়।