গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে সুশাসনের জন্য নাগরিককে (সুজন) আড়াই কোটি টাকার অনুদান দিয়েছিল ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ (এবিবি)। এ ছাড়া প্রচারণার জন্য ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিও ২০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিল।
অন্যদিকে এ তহবিল থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ২০ কোটি টাকা চেয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এ টাকা চাওয়া হয়েছিল।
তবে কোনো নিবন্ধিত সংগঠন না হওয়ায় এ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবিবি।
ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে এবিবির মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘সুজন’-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, “সুজন বহুদিন ধরে বাংলাদেশে নাগরিক অধিকার, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করে আসছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত দুটি সংস্কার কমিটিতে ছিলাম।
সে হিসেবে জুলাই সনদের বাস্তবায়নে আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। জনগণকে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে উদ্বুদ্ধ করতেই আমরা ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে অনুদান নিয়েছি। এ অর্থের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা হবে।”
এবিবির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নয়, বরং আমরা নির্বাচনী বিতর্ক আয়োজনের জন্য অনুদান নিয়েছি। এরই মধ্যে একাধিক বিতর্ক আয়োজন হয়েছে। আগামীতে আরো কয়েকটি বিতর্ক হবে।’
গণভোটের প্রচারণার জন্য তহবিল দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ বিতর্ক চলছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই খাতে অর্থ দিতে পারে কিনা? প্রশ্ন উঠায় এ বিষয়ে অডিট তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সাধারণত বঞ্চিত ও অনগ্রসর মানুষের সামাজিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়নে দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অর্থ ব্যয় হতো। তবে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সিএসআর’র অর্থ ব্যবহার হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মামুন রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ভোটের প্রচার করবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। ব্যাংকের টাকায় এই প্রচার করা ঠিক হয়নি। যে প্রক্রিয়ায় টাকা দেওয়া হয়েছে সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ।
সূত্র : মানবজমিন ও বণিক বার্তা