সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় দিনের শেষ ওভার। বোলিংয়ে খুররম শেহজাদ।
তার প্রথম তিন বল ভালোভাবেই সামাল দিলেন মুমিনুল হক।
কিন্তু চতুর্থ বলে গুবলেট পাকিয়ে ফেললেন। অফ স্টাম্পের বাইরে একটু বাইরে ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়লেন মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে।
সেটিই হয়ে থাকল দিনের শেষ বল।
স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানিরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। কিন্তু দিনটা পুরোপুরি বাংলাদেশের হয়ে থাকল। ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে সফরকারীদের যে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পথে স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করা পাকিস্তান আজ নাহিদ রানা গতি ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে অলআউট হয়েছে ২৩২ রানে।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছে ৪৬ রানের।নাহিদ আজও পাকিস্তানি ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন। ছবি: মীর ফরিদ
এরপর দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে খেলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে ফেলেছে তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে এগিয়ে আছে ১৫৬ রানে।
চোট কাটিয়ে ফেরা বাবর আজম (৬৮) ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো ব্যাটার ভালো পারফর্ম করতে পারেননি। টেলএন্ডার সাজিদ খান ৩৮ রান না করলে দুইশ ছোঁয়াও কঠিন হয়ে যেত পাকিস্তানের।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পর চতুর্থ ওভারে হারায় অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসানকে। তবে সেই ধাক্কা বুঝতে দেননি মাহমুদুল হাসান জয়।
JOY1
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি করেছেন জয়। ছবি: মীর ফরিদ
স্কয়ার কাট, কাভার ড্রাইভ, ফ্লিক, দারুণ সব শটে বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি আসতে থাকে জয়ের ব্যাট থেকে। ১০ চারে ফিফটি করে ফেলেন তিনি ৫৮ বলেই। তবে সম্ভাবনাময় ইনিংসটিকে বড় করতে পারেননি জয়। আউট হন ৫২ রানে।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দিনটা পার করে দেওয়ার পথেই ছিলেন। কিন্তু শেষ সময়ে বিপত্তি। মুমিনুল ফেরেন ৩০ রানে।
আগামীকাল তৃতীয় দিনে লিড আরো বাড়িয়ে পাকিস্তানকে কঠিন লক্ষ্য দিতে চাইবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ অলআউট (লিটন ১২৬; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ অলআউট (বাবর ৬৮, সাজিদ ৩৮; নাহিদ ৩/৬০, তাইজুল ৩/৬৭)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২৬.৪ ওভারে ১১০/৩ (জয় ৫২, মুমিনুল ৩০, শান্ত ১৩*; খুররম ২/১৯, আব্বাস ১/২৯)।
* দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৫৬ রানে এগিয়ে।