*সিরাজগঞ্জের খোকসাবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার: আধুনিক ফল-সবজি চাষের প্রশিক্ষণকেন্দ্র*
*মোঃ ইনসাফ আলী | সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | দেশের প্রত্যয়*
*সিরাজগঞ্জ:* জেলার কৃষির মানচিত্র বদলে দিতে নিরবে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, হর্টিকালচার সেন্টার, খোকসাবাড়ি। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার এই কেন্দ্রটি এখন শুধু নার্সারি না, বরং আধুনিক ফল ও সবজি চাষের মডেল ফার্ম ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
*মুখ্য কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য:*
হর্টিকালচার সেন্টারের মূল লক্ষ্য—উন্নত জাতের ফল, ফুল ও সবজির চারা উৎপাদন, কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং লাভজনক বাগান গড়তে সহায়তা করা। এখানে টিস্যু কালচার ল্যাব, বীজতলা, মাদার ব্লক ও প্রদর্শনী প্লট রয়েছে।
*যা যা হচ্ছে এই সেন্টারে:*
1. *উন্নত জাতের চারা উৎপাদন:* আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন আম, সিডলেস লেবু, মালটা, কমলা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফলসহ উচ্চমূল্যের ফলের চারা উৎপাদন হয় এখানে। রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন চারা জেলা-বহির্ভূত কৃষকরাও সংগ্রহ করছেন।
2. *কৃষক প্রশিক্ষণ:* প্রতি মাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আধুনিক কলম পদ্ধতি, গাছের সঠিক পরিচর্যা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, ড্রিপ ইরিগেশন—সবই শেখানো হয়। ঈদের ছুটিতেও নতুন কৃষকদের প্রশিক্ষণ চলছে।
3. *প্রদর্শনী বাগান:* সেন্টারের ১০ একর জমিতে বিভিন্ন ফল ও সবজির মডেল বাগান আছে। কৃষকরা এখানে এসে সরাসরি দেখে শিখতে পারেন—কম জায়গায় কীভাবে বেশি ফলন পাওয়া যায়।
4. *নিরাপদ ফসল উৎপাদন:* রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে কেন্দ্রটি। এতে উৎপাদিত ফল-সবজি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত।
সেন্টারের উপপরিচালক জানান, “আমাদের টার্গেট হলো সিরাজগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ১০ জন কৃষককে বাণিজ্যিক ফল চাষে আগ্রহী করা। খোকসাবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টার সেই স্বপ্নের কারখানা।”
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “এখান থেকে কাটিমন আমের চারা নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে বাগান করেছি। বছরে ৩ বার ফল পাচ্ছি। প্রশিক্ষণ না নিলে এটা সম্ভব ছিল না।”
ঈদুল আযহার পর কৃষি মৌসুম শুর আগে সেন্টারে চার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কর্তৃপক্ষের আশা, এই সেন্টারকে ঘিরে সিরাজগঞ্জে একদিন ‘ফলের জেলা’ হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি হবে।
খোকসাবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টার প্রমাণ করছে—সঠিক প্রশিক্ষণ আর মানসম্পন্ন চারাই পারে কৃষককে লাভবান করতে, আর জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে।