সালথায় দুই পক্ষের মোড়লের দ্বন্দ্বে জিম্মি সাধারণ মানুষ: হামলা-ভাঙচুর অব্যাহত রয়েছে
মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা)প্রতিনিধি ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দুই গ্রাম্য মোড়লদের আধিপত্যে বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা দ্বন্দ্বে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায়ই সংঘর্ষ, হামলা - পাল্টা হামলা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এতে ইতিমধ্যে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী ও মিরের গট্টি গ্রামসহ আশেপাশের এলাকায় একের পর এক ছয় সততা ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) সকালে মিয়ার গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টি বাড়িতে ভাঙচুর অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্যকে বিস্তারকে কেন্দ্র করে আড়য়াকান্দী গ্রামের ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বার ও বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। এলাকায় তারা প্রভাবশালী ও মোড়ল হিসেবে পরিচিত।
এক সময় তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ৫ ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপিতে যোগ দিয়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ টি বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংস্কার ইতিমধ্যে দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকটি বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঘটনাপ্রবাহ জানা যায়, রবিবার (৩ মে) দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখ কে পিটিয়ে আহত করে জাহিদ মাতুব্বরের অনুসারীরা। এর জের ধরে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক রেজাউলকে মারধর করে নুরু মাতুব্বরের পক্ষের লোকজন। এই ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তারই জের ধরে সোমবার সকালে নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজীব মাতব্বর কে কুপিয়ে আহত করা হলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নুরু মাতুব্বরের পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের বাড়িতে ব্যাপক হামলা চালায় ভাঙচুর করে এবং অগ্নিসংযোগ করে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ও চাকরিজীবী অভিযোগ করে বলেন, গট্টি বালিয়া, আড়য়াকান্দী,মিরের গট্টি ও কানৈড় গ্রামের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন এই দুই মোড়ল।
তাদের পক্ষে না গেলে এলাকায় বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সহিংসতা সৃষ্টি করে পরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে তারা সুবিধা আদায় করেন। তারা আরো অভিযোগ করেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ এর অভাব রয়েছে। মামলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরু মাতুব্বর বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের 10 থেকে 12 জন সমর্থক গুরুতর আহত ও পঙ্গ হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে জাহিদ মাতুব্বর বলেন, তিনি বর্তমানে অসুস্থ এবং কোন ধরনের রাজনীতি বা বিরোধী জড়িত নন। শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে চান বলেও জানান তিনি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং কারো পক্ষ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, এই সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং এলাকায় শান্তি - শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনের সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
৪-৫-২০২৬ ইং