সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও এতদিন প্রো-অ্যাক্টিভ বা স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকার অভাবে এই জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
এমনকি সমাজসেবা কার্যক্রমও এতদিন ভালোভাবে পরিচালিত হয়নি।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ক্রমবিকাশে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৮টি বিভাগীয় কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় খাতে কাজের পরিধি আরো বিশালতা পাবে। ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, লিভার ডিজিজ, থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এ খাতের মোট বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো এখন আর শুধু কোনো দলের নয়, এটি জাতির ম্যানিফেস্টো। জনগণ দায়িত্ব দেওয়ায় এটি এখন সরকারের জাতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্যে পরিণত হয়েছে, যা এক ধরনের ‘ম্যাগনা কার্টা’র মতো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছর প্রায় ৪০ লাখ ২০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে ৮০ হাজার পরিবারের মধ্যে এই কর্মসূচির পাইলটিংয়ের দ্বিতীয় ধাপ চলছে এবং জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় ধাপ শেষ হবে। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ট্রেডে দক্ষতা ও ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (সেলাই মেশিন বা কম্পিউটার) সরকারিভাবে দেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ‘কেয়ারগিভিং’ প্রশিক্ষণের সঙ্গে ভাষাশিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিবন্ধীদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো ব্যক্তির সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করে না। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।বিদ্যমান সমাজসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য আগামীতে একটি তিন দিনব্যাপী ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত নতুন মহাপরিকল্পনা আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কার্যকর করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনায় এই সমন্বয়ের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়ে সেবার গুণগত মান বাড়ানো হবে।