সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই দেশে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই এলাকা তথা পুরো বাংলাদেশে হবে না। এ ব্যাপারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমরা দখলদারিত্ব এবং সকল প্রকার নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে দেড় দুই মাস এই বয়সে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি এটা খুবই কঠিন ছিল। এ দেশ কারো একার দেশ না, এই দেশ আঠারো কোটি মানুষের দেশ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জাতীয়বাদের সূচনা এই দেশে চালু করেছিল কারণ এখানে সকল ধরনের লোকের বসবাস।সকলকে ধারণ করার জন্য তিনি এটির সূচনা করেছিলেন। এরই অংশ হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংধনু জাতি গঠনের কথা বলেছিলেন। আজ আমি চট্টগ্রামের প্রতিটি স্থানে এর প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। এভাবেই সকলে এক হয়ে আমরা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মা এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পাশ করেছেন। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি আমার আয়ত্তের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। যেই দুটি ডিপিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এগুলো আমি ঢাকা গিয়েই বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। স্থানীয়দের সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুসম্পর্ক তৈরি হয় এই বিষয়ে আমি কাজ করব।’
প্রধান বক্তৃতার বক্তব্যে উপাচার্য আল-ফোরকান বলেন, ‘আজকের প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ব্যক্তিগতভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত আছেন।
তবুও সংক্ষেপে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই—২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি। বিশেষ করে আবাসন সংকট একটি বড় সমস্যা। আমাদের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। আমরা আশা করি, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের আন্তরিক উদ্যোগ ও দৃঢ় নেতৃত্বে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য—শাটল ট্রেন। প্রতিদিন প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এই শাটলের মাধ্যমে যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমরা এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।'
আলোচনা সভা ছাড়াও চবিতে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিল– বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখের গান ও নৃত্য, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা, বলী খেলা, বউচি খেলা, পুতুল নাচ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) এর উদ্যোগে ছিল উদ্যোক্তা মেলা।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান এর নেতৃত্বে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়ে চবির জারুলতলায় এসে শেষ হয়।
এরপর উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন–চবি উপ-উপাচার্য
(একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।
এছাড়া বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক সমিতির নেতা, অনুষদ সমূহের ডিনরা, রেজিস্ট্রার, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকরা।