নাটোরের লালপুর উপজেলার ৯নং এবি(অর্জুনপুর-বরমহাটি)ইউনিয়নের শালেশ্বর পাকা রাস্তা হতে বরমহাটি হাইস্কুলের পাকা রাস্তা পর্যন্ত মোট ১৩০০ মি: দৈর্ঘ্য রাস্তায় প্রায় দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ হয়। উক্ত প্রকল্পে বর্তমান কাজ চলমান রয়েছে এবং কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।মানহীন নির্মাণ উপকরণ ব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ও উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুভ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধেও। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান চরমভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে রাস্তা টিক সই না হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি বলে মন্তব্য অধিকাংশ স্থানীয় সুধী সমাজের।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, RNC প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নত মানের ভিটি বালু,শক্তিশালী খোয়া,পাথর এবং টেকসই নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কথা থাকলেও বাস্তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শুভ এন্টারপ্রাইজ নিম্নমানের পচা খোয়া ও ভিটি বালু বদলে মাটি দিয়ে ঠেলেগুজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে লুটপাট চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার (১২মে-২০২৬) স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহের কাজে উপস্থিত হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ কর্মীদের জানায়,রাস্তাটির শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ যেমন নিম্নমানের খোয়া ও বালির বদলে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে রাস্তার স্থায়িত্ব কমে যাবে এবং ছয় মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার এর যোগসূত্রে এই অনিয়মের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সেন্টু (৪৫)জানায়,“যে মানের কাজ হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে দুই-চার ছয় মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাবে। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।” সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মন্টু মিয়া(৩৮)নামের এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“প্রকল্পের বাজেট কোটি টাকার ওপরে, অথচ রাস্তার কাজে এত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে যে, কয়েক মাসের মধ্যেই এটি নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চাই, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
নির্মাণ কাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে শুভ এন্টারপ্রাইজের সত্তাধিকার ফয়সাল আহমেদ শুভ সংবাদ কর্মীদের জানায়, আমি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করছি, খারাপ যেটা বলছেন সেটা সেলবেজ, যেটা সরকার আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আগের চেয়ারম্যান মেম্বার ইট খারাপ দিয়েছিল আমিও সেটা ব্যবহার করছি।সব কিছু উপজেলা প্রকৌশলী নিজেই জানেন। তাদের অনুমতি ও পরামর্শক্রমেই এই রাস্তার কাজ হচ্ছে।কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে না এই রাস্তার কাজে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা প্রকৌশলী আওলাদ হোসেন সংবাদ কর্মীদের জানায়,“ওখানে যখন ইট ফেলছে তখনই আমার লোক বলছে, ইট খারাপ আছে। ঠিকাদারকে ইট পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমার কথার কোন কর্ণপাত করেনি।
বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন জানায়,কোন অনিয়ম দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।