র্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতির ঘটনায় মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাঁচ ভুয়া র্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) ঢাকার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া থানার মামলা নম্বর-১১৮, তারিখ ১৮ জুন ২০২৬, পেনাল কোডের ১৭০/১৭১/৩৯৫/৩৯৭ ধারায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে।
গত ১৮ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ জানতে পারে, মামলার আসামিরা একটি টয়োটা মাইক্রোবাসে করে সাভার থানার আকরাইন বাজার মোড় থেকে খাগান বাজার এলাকায় যাওয়ার পথে রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল আকরাইন বাজার মোড় সংলগ্ন সাগর মেশিনারিজ ওয়ার্কশপের সামনে অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন মাইক্রোবাসটিকে থামানোর সংকেত দিলে গাড়িটি থামে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে তিনটি ভুয়া র্যাব পরিচয়পত্র, পাঁচটি কালো রঙের র্যাব ভেস্ট, পাঁচটি কালো রঙের র্যাব ক্যাপ, একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-চ-৫১-৮৬৮০), ছয়টি নম্বর প্লেট, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি পিস্তলের কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিনটি স্টিলের তৈরি হ্যান্ডকাফ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত আলামতগুলো ১৮ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়। একই সময় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আশরফুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৮), মো. সুমন (৩৬), মো. সারোয়ার হোসেন সাগর (৩৫), মো. সুমন ওরফে ক্যাপ সুমন (৩৫) এবং মো. কাঞ্চন (৩৫)।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।