কক্সবাজারের রামু উপজেলার দুর্গম ঈদগড় ইউনিয়নের বিদ্যুৎবঞ্চিত ৪০টি পরিবারে সৌরবিদ্যুতের আলো পৌঁছেছে।
জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকা এসব পরিবারের ঘরে এখন জ্বলছে বাতি।
সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্যসেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এসেছে পরিবর্তন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঈদগড় ইউনিয়নে স্থাপিত ৪০টি পরিবারের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এসময় তিনি উপকারভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগড়ের দুর্গম এ এলাকার বাসিন্দারা বিদ্যুতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। রাতে কেরোসিনের বাতি বা অন্যান্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হতো। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ভোগান্তি ছিল বেশি। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
উপকারভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা বলেন, এখন ঘরে আলো জ্বলছে। টেলিভিশন দেখা যাচ্ছে, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া যাচ্ছে। ছেলে-মেয়েরাও রাতে আলোতে পড়াশোনা করতে পারছে। দীর্ঘদিন অন্ধকারে থাকার পর সৌরবিদ্যুৎ পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছানো কঠিন।
বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় এলেও বিদ্যুতের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গিয়েছিল। ৪০টি পরিবারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন অন্তত এসব পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৪০টি পরিবারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রাতের বেলায় নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজ হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। গত ছয় মাসে সদর, রামু ও ঈদগাঁও এলাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসময় তিনি স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এর আগে ও পরে তিনি গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নবঞ্চিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম, গোলাম কবির সওদাগর, ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন, গর্জনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম, সৈয়দ আলম, জয়নাল আবেদীন, মহিবুল্লাহ, রামু প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহীদ, মাইমুনুর রশিদ মামুনসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল ও তাঁতি দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।