রমজান মাসে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে সিন্ডিকেট নির্মূলসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে নাগরিক তদারকি কমিটি গঠন জরুরি। বিএসটিআই-এর পাশাপাশি ‘নিরাপদ খাদ্য’ সিল প্রবর্তন করতে হবে, যেন ক্রেতারা আশ্বস্ত হতে পারেন।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিসেফ ফাউন্ডেশন, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিসউক) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
‘পবিত্র রমজানে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপদতা ও ঝুঁকি মোকাবেলায় নাগরিক দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার। বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন করেন শিসউকের নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, ক্যাবের প্রেসিডেন্ট সাবেক সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আতাউর রহমান মিটন, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সিণ্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; প্রত্যেক বাজারে ‘নিরাপদ কৃষকের বাজার’ প্রতিষ্ঠা; খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার; রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফল ও কৃত্রিম রং মেশানো খাবার বিক্রি বন্ধ; খাদ্যপণ্যে পুষ্টিমান দৃশ্যমানভাবে উল্লেখ; ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ এবং একক জানালা ভিত্তিক ডিজিটাল খাদ্য ব্যবসা নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং পোর্টাল চালু।
এ সময় বক্তারা বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে বিশেষ করে রোজায় ব্যবহৃত পণ্যের দাম পরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হয়।
সরকারকে শুধু অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে বাজার মনিটরিং ও কৃষকের সরাসরি বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করতে হবে। শুধু প্রকল্পনির্ভর উদ্যোগ নয়, বরং গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বছরব্যাপী জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক করতে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার খাবার গ্রহণ করেন।
কিন্তু এই বিশাল বাজারের বড় অংশই এখন অনিরাপদ এবং সিন্ডিকেটের দখলে। বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া। যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা অবিলম্বে ১০টি সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করারও জোরালো দাবি জানান।