মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলা চত্বরে জুড়ী উপজেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বেলাগাঁও গ্রামের সমাজসেবক রেজান আলী। এতে বক্তব্য দেন মৎস্যজীবী আফতাব আলী, মোস্তাকিম হোসেন, হাবিবুর রহমান, সুমন আহমেদ, মো. হাবিব মিয়া, আবু নাঈম, জাবেদ আহমদ ও আজিজ মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে জুড়ীতে কর্মরত থাকার সুযোগে হাকালুকি হাওরকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাওরের মৎস্যসম্পদ লুটপাট ও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন তারা।
তাদের দাবি, সরকারি জলমহাল নীতিমালা অমান্য করে বিভিন্ন বিলে সেচ মেশিন ব্যবহার করে পানি শুকিয়ে মাছ আহরণ করা হচ্ছে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাকালুকি হাওরের চাতলা বিল, তুরল বিল ও নাগুয়াবিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ১০ থেকে ১৫টি মেশিন দিয়ে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।বক্তারা আরো বলেন, অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে এসব কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় অবিলম্বে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করছি।
অবৈধ মৎস্য শিকার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে
।’