প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। শনিবার (২৮ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন তিনি।
তার দেওয়া পোস্টে মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘ফেসবুকে আমি সরব নই। আজ এক সত্য প্রকাশ না করে পারলাম না।এ যেন বিবেকের দংশন। জেনারেল মামুন খালেদ ছিলেন এক সময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সামরিক অফিসার। আমি ছিলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)। বহু রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং প্রভাবশালীদের দখল থেকে উদ্ধার করেছিলাম নদী, খাল, জলাশয়, পাহাড় ও বনভূমি।
তিনি বলেন, ‘এরপর ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চাপ দিয়ে জরিমানাও আদায় করলাম। এতে জেনারেল মামুন আরো ক্ষিপ্ত হলেন। আমার মন বলছে, কিসের জেনারেল মামুন খালেদ ? কিসের ডিজিএফআইয়ের হুমকি? সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহর। ওইদিন রাতে আরো ভয়ংকর ঘটনা। আমি পরিবেশ ভবনে রাতযাপন করতাম, ওই ভবন থেকে রাতে-দিনে সারা বাংলাদেশে অভিযানগুলো চালাতাম। আমার কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। যদিও ‘বেলা’ কিংবা পরিবেশবাদী কোনো সংগঠন সেই পরিস্থিতিতে আমার পাশে দাঁড়ায়নি।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বলেন, ‘কোথায় আজ জেনারেল মামুন খালেদ। সামরিক, বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাসীমা অতিক্রম করলে তা যে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে দাঁড়ায়, এটি তার অনন্য নজির।’
পোস্টে সামরিক বাহিনীর আবাসন প্রকল্প জলসিঁড়ি বাস্তবায়নে জেনারেল মামুন খালেদের দুর্নীতির ঘটনা উদ্ঘাটন করার অনুরোধ জানান মুনীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে পেশাদারি, সততা ও যোগ্যতাকে সম্মান ও মূল্যায়ন করুন। নতুবা শাসনের সংকট থেকেই যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মের অফিসারদের আহ্বান জানাব, এসিআর অবমূল্যায়নের ভীতি, পদোন্নতি বঞ্চনার আতঙ্ক কিংবা শাস্তিমূলক বদলির আশঙ্কায় কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় নয়। পার্থিব এ পদ-পদবি ও অর্থবিত্ত এক সময় হয়ে যায় ভঙ্গুর ও শূন্য।’
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মামুন খালেদকে আটক করে (ডিবি)। তিনি ২০০৭-০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।
সূত্র কালের কণ্ঠ