মহাষ্টমীর মহাসমারোহে মুখরিত চারদিক: ভক্তদের ঢল মণ্ডপে মণ্ডপে, পালিত হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:বাঁধন সরকার
বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। ঢাকের বাদ্য, ধূপের সুবাস আর শিউলি ফুলের গন্ধে মেতে উঠেছে পুরো দেশ। আজ ভক্তি ও উৎসাহের সাথে পালিত হচ্ছে দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ শুভ মহাষ্টমী। মায়ের চরণে অঞ্জলি দিতে এবং মহাশক্তির আরাধনা করতে সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়েছে সর্বস্তরের মানুষের ভিড়।
মহাষ্টমীর বিশেষত্ব ও তাৎপর্য
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাষ্টমীর দিন দেবী দুর্গার উগ্ররূপী চামুণ্ডা বা মহাগৌরীর আরাধনা করা হয়। এই দিনটিতেই দেবী দুর্গার শক্তির প্রকাশ ঘটে সবচেয়ে বেশি। দিনটি শুরু হয় মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ এবং বিহিত পূজার মাধ্যমে। ভক্তরা উপবাস থেকে নিজেদের পরিশুদ্ধ করে অঞ্জলি নিবেদনে অংশ নেন। সকলের একটাই প্রার্থনা—পৃথিবী থেকে সমস্ত অশুভ শক্তি ও গ্লানি দূর হোক, আর সবার জীবনে বয়ে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য।
কুমারী পূজার আকর্ষণ
মহাষ্টমীর দিনটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। বিভিন্ন মঠ ও বড়ো বড়ো পূজামণ্ডপে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কুমারী কন্যাদের দেবী পুজো করা হয়। ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের দেবীর প্রতিরূপ হিসেবে সাজিয়ে তাদের পূজা করা হয়। এই বিশেষ আচার দেখতে এবং আশীর্বাদ নিতে মণ্ডপগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
সন্ধিপূজার মহেন্দ্রক্ষণ
মহাষ্টমী ও মহানবমীর সংযোগস্থলে অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সন্ধিপূজা। এই ক্ষণে দেবী দুর্গার চামুণ্ডা রূপের পূজা করা হয়। পূজামণ্ডপগুলোতে নির্দিষ্ট লগ্নে যখন বলিদান বা প্রতীকী বলি এবং ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়, তখন এক গম্ভীর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সরকারি উদ্যোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উৎসব যেন সর্বসাধারণের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হয়, সে জন্য সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর সিসি ক্যামেরা ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান এবং সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে আনন্দ ও সম্প্রীতির সাথে এই উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
চারপাশের উৎসবমুখর পরিবেশ
রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি জেলা ও গ্রামের মণ্ডপগুলো আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে শিশু, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করছেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই শারদীয় দুর্গোৎসব।
মহাষ্টমীর এই পবিত্র আলোয় সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। সবার প্রার্থনা, মায়ের আশীর্বাদে পৃথিবী থেকে সকল অশান্তি ও বৈরিতা দূর হয়ে হোক এক সুন্দর বৈশাখী দুনিয়া তথা শান্তিময় পৃথিবী।