প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৪, ২০২৬, ৫:৩৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
ভোট কারচুপি বা ‘দুই নম্বরি’ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা : ইসি সানাউল্লাহ
ভোট কারচুপি বা কোনো ধরনের ‘দুই নম্বরি’ করার চিন্তাভাবনা কেউ করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)।
বগুড়া-৬ সদর শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবার যেকোনো ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ভোটের দিন কিংবা তার আগে-পরে যেকোনো পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ এলে তা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তার ভাষায়, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ অবহেলা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এটি ছোট নির্বাচন নয়, বরং কমিশনের কাছে প্রতিটি ভোটই সমান গুরুত্বপূর্ণ।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার কথা তুলে ধরে ইসি বলেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
উপনির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের কিছু বিতর্কিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সানাউল্লাহ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের অসতর্কতা বা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একটি ছোট ভুল পুরো নির্বাচনকে বিতর্কে ফেলে দিতে পারে। এ জন্য দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের আরো সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ছয়জন করা হবে। এর পাশাপাশি
প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র আনসার সদস্য এবং আরো ১০ জন নিরস্ত্র আনসার দায়িত্ব পালন করবেন।’
নির্বাচনের আগে ও পরে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সভায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অবৈধ ও হারানো অস্ত্র। নির্বাচন কমিশনার জানান, বর্তমানে চার শতাধিক পিস্তল নিখোঁজ রয়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অস্ত্রগুলো কোথায় আছে, কীভাবে ব্যবহার হতে পারে সেটা বড় প্রশ্ন। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যেন এগুলো ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনুর রশিদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান, নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম, আনসার বাহিনীর রাজশাহী রেঞ্জের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ৪০ বীরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট তানভীর আহমেদ তমাল, রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক দেশের প্রত্যয়। Web: www.desherprottoy.com / Gmail : desherprottoy@gmail.com / সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে।