শিরোনামঃ

ভোটের মাঠে বিধিভঙ্গের হাওয়া

admin
ভোটের মাঠে বিধিভঙ্গের হাওয়া
Getting your Trinity Audio player ready...

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সোমবার আচরণবিধি ভেঙে কর্মী সম্মেলনের আড়ালে এক প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা। ছবিটি প্রার্থীর ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

ভোটের প্রচার যত জোরদার হচ্ছে, ততই খসখসে হয়ে উঠছে বরিশালের নির্বাচনী মাঠ। পোস্টার, স্টিকার, অতিরিক্ত নির্বাচনী বুথ মিলিয়ে আচরণবিধি কেবল কাগজে রয়েছে, নেই মাঠে।

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে গত কয়েক দিনে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ যেভাবে জমতে শুরু করেছে, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে প্রার্থীদের একাংশের।

রিটার্নিং অফিস ও মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য বলছে, মাত্র তিন দিনে আচরণবিধি ভাঙার দায়ে অন্তত ১১ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

মোট জরিমানার অঙ্ক ছুঁয়েছে ছয় হাজার টাকা।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে মোটরসাইকেলে অবৈধ স্টিকার, অনুমোদনহীন রঙিন পোস্টার, এমনকি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বুথ তৈরি করার ঘটনাও।

গৌরনদীতে প্লাস্টিক ব্যবহার করে প্রচার চালানোর অভিযোগে ধানের শীষের এক সমর্থককে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।

হিজলায় মোটরসাইকেলে অবৈধ স্টিকার লাগানোর অভিযোগে ১০ জনকে পাঁচ শ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভ্র জ্যোতি বড়াল।

আগৈলঝাড়ায় রঙিন পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুজ্জামান পলিন। আর বাবুগঞ্জে অতিরিক্ত বুথ নির্মাণ করায় ধানের শীষের প্রার্থীকে বুথ খুলে ফেলতে বলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহিল বাকী।
এদিকে, মাঠে জরিমানার পাশাপাশি অভিযোগের রাজনীতিও কম নয়। বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে তাঁর মেয়ে হাবিবা কিবরিয়ার প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

বরিশাল-৫ আসনে বাসদের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীর অভিযোগ আরো গুরুতর। তাঁর দাবি, বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমান সরোয়ার সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে প্রচারণা চালিয়ে একটি বাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।

সবচেয়ে কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন বরিশাল-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতায় প্রশাসনের একটি অংশের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

নাগরিক সংগঠন সুজনের বরিশাল মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম বলছেন, বিধিভঙ্গের ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই সন্দেহ তৈরি হতে পারে।

তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমনের দাবি, প্রশাসন নীরব নয়। প্রতিদিনই সতর্ক করা হচ্ছে, জরিমানাও হচ্ছে। কিছু অভিযোগ ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও সেনা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

জরুরী বিজ্ঞপ্তি: বিঃদ্রঃএই ওয়েব সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।

বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।