কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে রংপুরগামী মেইল বাস সার্ভিস চালু রাখার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে উপজেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল গোলচত্বরে ‘ভূরুঙ্গামারীর সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সেক্রেটারি স্বপন কুমার সাহা, সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আনোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস হোসেন, উত্তর ধরলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বশির আহমেদ বাঁশি, মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজার রহমান বাবলা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি তাইফুর রহমান মানিক, সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক উপজেলা সভাপতি রোকনুজ্জামান ও আল মামুন।
এ সময় উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সেক্রেটারি স্বপন কুমার সাহা বলেন, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে রংপুর মেইল বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে কুড়িগ্রাম মোটর মালিক সমিতির আপত্তির পর উভয় পক্ষের সমঝোতায় কুড়িগ্রাম থেকে ৯টি এবং ভূরুঙ্গামারী থেকে ৬টিসহ মোট ১৫টি বাস চলাচলের শর্তে সার্ভিসটি চালু হয়। তবে কোনো কারণ ছাড়াই আগামী ১ জুন থেকে এ সার্ভিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হয়। তিন দিক থেকে ভারতবেষ্টিত সীমান্ত উপজেলা ভূরুঙ্গামারীর মানুষের জন্য এ বাস সার্ভিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মহলের প্ররোচনায় সার্ভিসটি বন্ধের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জনগণের স্বার্থে ভূরুঙ্গামারী-রংপুর মেইল বাস সার্ভিস অব্যাহত রাখতে হবে।
তারা জানান, এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম ও রংপুর বাস মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের অবস্থান জানানো হয়েছে।
বক্তারা আরো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে উপজেলাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া মেইল বাস সার্ভিস বন্ধ করা হলে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির বাস চলাচলের বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।