ভিয়েতনামে একটি সংঘবদ্ধ বিড়াল চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির পুলিশ। জবাই করার উদ্দেশ্যে খাঁচায় আটকে রাখা
৪০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হো চি মিন সিটি পুলিশ।
একই সঙ্গে বরফে সংরক্ষিত প্রায় ৮০টি মৃত প্রাণী জব্দ করা হয়। একটি পৃথক কেন্দ্র থেকে আরো ২১টি বিড়াল জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দক্ষিণ ভিয়েতনামের তাই নিন প্রদেশ ও হো চি মিন সিটির বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা গত তিন বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পোষা বিড়াল ফাঁদ পেতে চুরি করে আসছিল।
প্রতি দুই-তিন দিন পর পর এই চুরি করা বিড়ালগুলো মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর এনিম্যালস এক বিবৃতিতে জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়ালের মধ্যে ৪০টিকে ইতিমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানায়, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের কারণে উদ্ধার করার পরও বেশ কিছু বিড়াল মারা গেছে।
ভিয়েতনামের আইন অনুযায়ী কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ হলেও, বিক্রেতাদের কাছে পশুগুলোর বৈধ উৎস ও অনুমতিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।প্রাণী কল্যাণ সংস্থাটির তথ্য মতে, ভিয়েতনামে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বিড়াল এবং ৫০ লাখ কুকুর মাংসের জন্য চুরি ও পাচার করা হয়। তবে দেশটির তরুণ প্রজন্ম এবং পোষ্য মালিকদের মধ্যে এখন এই ব্যবসার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে। যেসব বাসিন্দার পোষা বিড়াল সম্প্রতি হারিয়ে গেছে, তাদের উদ্ধারকৃত পশুদের শনাক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।