ভারতের উত্তর প্রদেশজুড়ে ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেরেলি জেলায় ভয়াবহ ঝড়ের সময় ৫০ বছর বয়সী এক রিকশাচালক প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উড়ে গিয়ে মাঠে পড়ে যান।
গত বুধবার এই ঘটনা ঘটে।
বামিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নানহে সন্ধ্যায় একটি বিয়ের হলের টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন। ঠিক তখনই শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া টিনের ছাউনিটি তুলে নেয় এবং নানহেকেও সঙ্গে করে আকাশে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি টিনের ছাউনির সঙ্গে ওপরে উঠে যাচ্ছেন এবং পরে ছিটকে গিয়ে একটি আখের ক্ষেতে পড়ে যান।
এই ঘটনায় নানহের হাত ও পা ভেঙে গেছে, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। গ্রামবাসীরা এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন।
নানহে বলেন, ‘যখন আমি বাতাসে ছিলাম, তখন মনে হয়েছিল আর কোনোদিন সন্তানদের দেখতে পারব না।’ তিনি বিয়ের হল থেকে কিছু জিনিস আনতে গিয়েছিলেন।হঠাৎ ঝড় শুরু হলে তিনি টিনের কাঠামোটি দড়ি দিয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেন, যাতে সেটি উড়ে না যায়। কিন্তু প্রবল বাতাস পুরো কাঠামোসহ তাকেও তুলে নেয়।
কয়েক সেকেন্ড আকাশে থাকার পর তিনি পাশের একটি মাঠে পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারান। পরে তিনি বলেন, আখের খেতে পড়ায় আঘাত কিছুটা কমে এবং সম্ভবত সেটিই তার জীবন বাঁচিয়েছে।
১৬ বছর বয়সী রাজন আনসারি নামের এক কিশোর ছাদ থেকে এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে।
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে অনেকে নানহেকে ‘বেরেলির উড়ন্ত মানুষ’ বলে ডাকতে শুরু করেন। নানহেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার উন্নতি হলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, পরদিন আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন উত্তর প্রদেশজুড়ে শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের সঙ্গে ছিল প্রবল বাতাস, বজ্রপাত ও ভারি বৃষ্টি।
ত্রাণ কমিশনারের দপ্তর জানিয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ১১১ জন নিহত এবং ৭২ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘরের টিনের ছাউনি উড়ে গেছে, বহু গাছ উপড়ে পড়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে বর্ষার আগে গ্রীষ্মকালে প্রায়ই তীব্র ঝড় হয়। বজ্রপাতেও সেখানে নিয়মিত মানুষের মৃত্যু ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়াবহ বজ্রঝড়, বজ্রপাতসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তে থাকা তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এসব ঘটনা বাড়ছে।