বিশ্ব বাবা দিবস আজ: নীরব ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধা
শংকর দাস পবন, সহঃবার্তা সম্পাদক
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতি সম্মান জানাতেই এ দিবসের আয়োজন।
‘বাবা’—ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর গভীরতা অসীম। তিনি শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক এবং জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
পরিবারের সুখ ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে একজন বাবা নীরবে নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। তার ভালোবাসা অনেক সময় মুখে প্রকাশ পায় না; বরং দায়িত্ব পালন, ত্যাগ এবং নিরলস পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তা প্রকাশিত হয়।
মায়ের ভালোবাসা যেমন সহজেই দৃশ্যমান হয়, বাবার ভালোবাসা তেমনি গভীর ও নীরব। সংসারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকে তার অক্লান্ত পরিশ্রম, চিন্তা ও আত্মত্যাগ।
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। এ দিবস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সনোরা স্মার্ট ডড। ১৯০৯ সালে তিনি মায়েদের পাশাপাশি বাবাদের সম্মান জানাতে একটি বিশেষ দিনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তার উদ্যোগে ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপিত হয়।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজব্যবস্থায় বাবারা সাধারণত নিজেদের আবেগ প্রকাশে সংযত থাকেন। ব্যক্তিগত কষ্ট, উদ্বেগ ও ক্লান্তি অনেক সময় তারা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। অথচ পরিবারের জন্য তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের কোনো দৃশ্যমান হিসাব থাকে না।
সমাজে এমন অসংখ্য বাবা রয়েছেন, যারা নিজের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কেউ নিজের জন্য নতুন পোশাক না কিনে সন্তানের বই কিনেছেন, আবার কেউ নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করেছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পারিবারিক সম্পর্কেও তৈরি হয়েছে দূরত্ব। ফলে অনেক সময় বাবার নীরব উপস্থিতি ও অবদান আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়।
বিশ্ব বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ। বাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটানো, তার খোঁজ নেওয়া কিংবা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো—এসবই হতে পারে তার জন্য সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
যাদের বাবা জীবিত আছেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি বাবার পাশে থাকার সুযোগ। আর যাদের বাবা আর নেই, তাদের জন্য দিনটি স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের।
কারণ, বাবার ভালোবাসা শব্দে নয়; দায়িত্ব, ত্যাগ এবং নীরব উপস্থিতিতেই সবচেয়ে গভীরভাবে প্রকাশ পায়।